পদ্ম গোখরার ছোবলে গৃহবধূর মৃত্যু

রাজশাহীতে সাপের দংশনে গৃহবধূ বিথি খাতুনের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি জেলার বাঘা উপজেলার পালশী-দেবতাপুরে চর জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনার পর পদ্মার চরাঞ্চলে সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা সাপে দংশন করা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রইজুল করিম জানান, সাপের দংশনে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম রাখা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাপে দংশনের রোগীদের চিকিৎসায় পৃথক ‘স্নেকবাইট ওয়ার্ড’ রয়েছে। এখানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পাশাপাশি কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার রোগীরাও চিকিৎসা পাচ্ছেন।

সাপে দংশনের রোগীকে ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জানা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে খাল-বিল ডুবে আছে। ফলে আবাসস্থল হারিয়ে সাপ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এসব সাপের সংস্পর্শে আসা মানুষকে দংশন করছে।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘরের ইঁদুরের গর্তে মাটি দেওয়ার সময় একটি গোখরা সাপ বিথির বাঁ হাতে দংশন করে। প্রতিবেশীরা সাপটি ধরে মাটির পাত্রে রাখেন। স্বজনরা বিথিকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার বাড়িতে নিয়ে যান। ওঝার ঝাড়ফুঁকের পর বিথি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম দিতে চাইলে রোগী ও স্বজনরা আপত্তি জানান। পরে অ্যান্টিভেনম না দিয়েই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথির মৃত্যু হয়।

সেদিন বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাসুম আহমেদ বলেন, রোগীকে অ্যান্টিভেনম দিতে কাউন্সেলিং করছিলাম। কিন্তু রোগী ও তার সঙ্গে থাকা পুরুষ স্বজন অ্যান্টিভেনম নেবেন না বলে জানান। তারা কারও সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করছিলেন। একপর্যায়ে অ্যান্টিভেনম ছাড়াই রাজশাহী যেতে চাইলে তিনি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেন। পরে শুনেছেন, ওই রোগী মারা গেছেন। ঘটনাটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হতো। সেখানে নিলে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমত। প্রথমে রোগীকে ওঝার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সময় নষ্ট করা হয়েছে। অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও রোগী ও স্বজনরা তা গ্রহণ করেননি।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অসীম কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে।

রামেকে ‘স্নেকবাইট ওয়ার্ড’

চলতি সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনসহ গত আগস্ট ও চলতি সেপ্টেম্বরে ৩৯২ জন সাপে দংশনের রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘স্নেকবাইট ওয়ার্ডে’ চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে আগস্টে ২৮৯ জন এবং সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনে ১০৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

দংশিত ৩৯২ রোগীর মধ্যে বিষহীন সাপের দংশন ছিল ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বিষধর সাপের দংশন ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। নির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী কেউটে ১০ দশমিক ৫, গোখরা ৪ দশমিক ৮, গোখরা-কেউটে ২ দশমিক ৬ এবং রাসেলস ভাইপার ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময়ে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ।

পৃথক ‘স্নেকবাইট ওয়ার্ড’ চালুর পর সাপে দংশনের রোগীদের মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ সহজ হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments