গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, একসময় শান্তিপ্রিয় ও নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিত রংপুর এখন খুন, ছিনতাই ও মাদকের কারণে আতঙ্কের নগরে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নগরবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

নেতারা বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আলামত ধুয়ে নষ্ট করার অভিযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় গ্রেপ্তার দুই আসামি পরিবারের সদস্যদের একে একে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু ডোপ টেস্টে আসামিদের মাদক গ্রহণের প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশের ওই বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, এত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য সব ধরনের কারণ বা মোটিভ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হয়নি। ফলে পুলিশের চলমান তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করা প্রয়োজন।

অবস্থান কর্মসূচিতে যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদ আহ্বায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘গোটা শহরের অলি-গলি মাদকে সয়লাব। মাদকের হটস্পটগুলো পুলিশের অজানা থাকার কথা নয়। মাদক সরবরাহে কারা জড়িত, তাদের প্রশ্রয়দাতা কারা—তা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের খুনের পুনরাবৃত্তি হয়তো ঘটত না।’

তিনি বলেন, রংপুরসহ সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকের কারণে মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করে রংপুরের মানুষের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সিপিবি জেলা সভাপতি ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন, অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান রোকন, মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট রাতুল জাহান রাতুল, বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি শাহীনুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অমল সরকারসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বাসদের সদস্যসচিব মমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদ আহ্বায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments