রাজধানীর উত্তর কাফরুল এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাসের নাম ভাঙিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালা মো. দেলোয়ার হোসেন (৪১) বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে কাফরুল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে চাঁদা দাবির ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে মঙ্গলবার রাতে কাফরুল থানা ও মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানায় দেওয়া অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজন হলেন উত্তর কাফরুলের মামুন (৪০), ইব্রাহিমপুরের হাবিবুর রহমান রাব্বি (৪০) ও বাবলা (৪০)। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, গত ২০ মে উত্তর কাফরুলের বি অ্যান্ড সি জহুরুল হক সড়কের ৫৭৬/৪ নম্বর বাড়িটি কিনে ভোগদখলে নেন দেলোয়ার হোসেন। ২০টি কক্ষের ওই বাড়িতে গত ২৪ আগস্ট দুপুরে মামুন গিয়ে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেন। সেখানে বিএনপির কার্যালয় করা হবে জানিয়ে অন্যথায় বাড়ির ভাড়া তাকে দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
পরে ১ সেপ্টেম্বর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রেজাউলকে জোর করে বের করে দেওয়া হলে দেলোয়ার নিজেই বাড়িতে অবস্থান নেন। পরদিন সকালে মামুন বাড়িতে গিয়ে চারটি ঘরের দরজা খুলে নিয়ে যান এবং চাঁদার টাকা না দিলে দেলোয়ারের বাবাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন দেলোয়ার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইব্রাহিমপুরে রাব্বির বাসায় বসে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড আব্বাস’ ও ‘তাজ’সহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে তাদের খুশি করার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিলে সমস্যার সমাধান হবে—এমন আশ্বাসে দেলোয়ার রাব্বির উপস্থিতিতে বাবলার হাতে আগের চার লাখ টাকাসহ মোট ১০ লাখ টাকা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মামুন অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে দেলোয়ারের বাসায় গিয়ে বাড়ি খালি করে দেওয়ার অথবা ভাড়া দেওয়ার জন্য হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি থানায় মামলার আবেদন করেছেন। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।



