প্রায় ২৫৭ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত প্রতিবেদন জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
গতকাল সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে দায়ের করা দুদকের মামলায় বলা হয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুদ্ধ করে সাকিব আল হাসান ও তার সহযোগীরা ২৫৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে সরাসরি ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজির ঘটনার মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। স¤প্রতি বিএসইসি থেকে এ সংক্রান্ত তদন্ত করা হয়। সোমবার দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন ওই তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করে নিয়ে এসেছে।
গত বছর জুনে দায়ের করা ওই মামলায় সাকিব ছাড়াও অন্যান্য ১৪ আসামি হলেন, সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম। আসামিদের বিরুদ্ধে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক দ্রæত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ অভিপ্রায়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ১৭ ধারা) পরিকল্পিতভাবে লঙ্ঘনপূর্বক নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টগুলোতে অসাধু, অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে ফটকা ব্যবসার মতো একাধিক লেনদেন, জুয়া ও গুজবের মাধ্যমে বাজারের কারচুপি করেছেন।
এজাহারে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার সংঘবদ্ধভাবে ক্রমাগত ক্রয়-বিক্রয়পূর্বক কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগে প্রতারণাপূর্বক প্রলুব্ধ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে তাদের ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎপূর্বক অস্বাভাবিক রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ বা প্রসিড অব ক্রাইম শেয়ারবাজার হতে সংঘবদ্ধভাবে উত্তোলন করেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু) কর্তৃক তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থের ২১ কোটি ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপনের অভিপ্রায়ে লেয়ারিং করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু)-এর ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক এবং সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে এজাহারে জানানো হয়।
মামলায় সাকিব আল হাসানের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে বলা হয়, আসামি মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু) কর্তৃক শেয়ারবাজারে কারসাজি করা প্যারামাউন্ট ইস্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করে বাজারে কারসাজিতে যোগসাজশ করেন।
সরাসরি সহায়তা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কারসাজি করা শেয়ারে বিনিয়োগে প্রতারণাপূর্বক প্রলুব্ধ করে তাদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অপরাধলব্ধ আয় হিসেবে শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন।
প্রস্গংত, ২০১৫ সালের এপ্রিলে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ২০১৮ সালে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে চুক্তি হয় দুদকের।
এ ছাড়া হটলাইন-১০৬ উদ্বোধনকালেও সাকিবের সঙ্গে কাজ করে দুদক। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ২০২২ সালে সাকিবকে আর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর রাখা হয় না।



