রাজশাহীতে মহাসড়ক অবরোধ ও ব্যাপক বিক্ষোভ

ঢাকায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকাল তিনটার দিকে রুয়েট সংলগ্ন নগরীর অন্যতম প্রবেশপথ তালাইমারী মোড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাঁশ ফেলে আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ফলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তালাইমারী মোড়ে এসে রুয়েট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করলে যান চলাচল শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধ ও বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটার নামে বৈষম্য, চলবে না চলবে না’, ‘সবার মুখে একই বয়ান, ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান’, ‘কথায় কথায় দশম ছাড়, দশম কি তোর বাপ-দাদার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানিম আহমেদ বলেন, শাহবাগ থেকে যমুনার দিকে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয়েছে। বুয়েটের তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তারা রাস্তায় নেমেছেন। হামলার প্রতিবাদ ও তিন দফা দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেশে কোনো কোটা থাকতে পারে না। অথচ ডিপ্লোমায় পড়াশোনা করে তারা কোটা প্রথায় চাকরি করছেন। এটা দেশে চলতে পারে না। এই দাবি আদায়ে ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ হামলা করেছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জানা গেছে, গত রবিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন করছেন রুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সেখানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। রোববার তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সোমবার তাঁরা রুয়েটে সংবাদ সম্মেলন করেন। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়ে নেসকোর প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হচ্ছে, সহকারী ইঞ্জিনিয়ার (৯ম) পদের নিয়োগ সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে হতে হবে এবং কোনো প্রমোশন কোটা থাকবে না; উপসহকারী ইঞ্জিনিয়ার (১০ম) পদের শতভাগ ডিপ্লোমা কোটা পরিহার করে বিএসসি ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।
অবরোধ ও বিক্ষোভে সৃষ্ট যানজটে ভোগান্তি
এদিকে দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধের কারণে শহরে আসা মানুষজন বিপাকে পড়েন। তারা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে পারছিলেন না। অনেকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। পুঠিয়া থেকে আসা আয়েশা বেগম বলেন, ‘দুপুরে একটি কাজে রাজশাহী শহরে আসি। সন্ধ্যা হলেও গাড়ি পাচ্ছি না। তাই হেঁটে যাচ্ছি, যেখানে গাড়ি পাব, সেখানেই উঠব।’ শাহাদত হোসেন অটোরিকশায় সবজি নিয়ে অকট্রয় মোড়ে আটকে যান। তিনি বলেন, এখান থেকে ঘুরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। অটোতে চার্জও নেই।
নগরের মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, বেলা তিনটার পর থেকে পৌণে ৭টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলে। গাড়িগুলো শহরের অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যাচ্ছিল। তবে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছে।
রুয়েট কর্তৃপক্ষের নিন্দা
অন্যদিকে ঢাকায় বুয়েট শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রুয়েট প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা ও আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা ও দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের সঙ্গে রুয়েটের একাত্মতা এবং দাবিগুলো ‘যৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবির পক্ষে রুয়েট প্রশাসন সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments