আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বিলম্বের কারণ জানতে ফোন দেন সালমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি থেকে রাজস্বাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ নিহতের পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য সালমান এফ রহমান তাঁকে ফোন করেন। এছাড়া ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দিতে কেন বিলম্ব হচ্ছে সে কারণও জানতে চান উনি। এরপরই আমি তৎকালীন রংপুর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পুলিশ কমিশনার আমাকে জানান, যথাযথ কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া পুন:জবানবন্দিতে এ কথা বলেন চৌধুরী মামুন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নের্তৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে সোমবার রাজস্বাক্ষী হিসেবে পূর্ণ জবানবন্দি দেন মামুন। কিন্তু কিছু তথ্য অপ্রকাশিত থাকায় গতকাল তা ট্রাইব্যুনালে প্রকাশ করেন। পরে তাকে জেরা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালে পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত কৌসুলি আমির হোসেন।
জেরার জবাবে চৌধুরী মামুন বলেন, ছাত্রজীবনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমার বাবা দীর্ঘকাল শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমার ছোট ভাইও একই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ভোট কারচুপি কিংবা অনিয়মের কারণে অন্য সব পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আমিও পদক পেয়েছি। তবে ঠিক কী কারণে পেয়েছি তা এ মুহূর্তে বলতে পারবো না। তবে এর আগে-পরেও দুবার পদক পেয়েছি। অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও আইজিপি হিসেবে দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানো হয় আমার। নিজের সম্মতিতে এ দেড় বছরের চুক্তিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার মেয়াদ বাড়ানোর সময় অনাগ্রহী ছিলাম। এমনকি জ্যেষ্ঠতার বিবেচনায় অন্য কাউকে আইজিপির পদে বসানোর কথাও জানাই। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবকে নিজের অনাগ্রহের কথা জানালেও গোপালগঞ্জ কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে আমাকে আবারও আইজিপি বানানো হয়।
তিনি বলেন, পুলিশের বিশেষায়িত টিম ‘সোয়াত’-এ স্নাইপারটি অস্ত্র হিসেবে সংযোজন করা হয়েছিলো। এই অস্ত্র ব্যবহারে আমেরিকা সোয়াত’কে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলো। তবে আন্দোলন দমনে পুলিশ স্নাইপার ব্যবহার করেছিল কিনা সেটি আমার জানা নেই। চৌধুরী মামুন বলেন, আমি র‌্যাবের বন্দিশালায় আটক ব্যারিস্টার আরমানকে মুক্ত বা আইনি সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি। তবে কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি।
তিনি বলেন, আইজিপি থাকাকালীন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বাসায় নিয়মিত বৈঠক হতো। পুলিশের মহাপরিদর্শক হওয়ার আগেও হয়েছিল। তবে আমি এসব বৈঠকে অংশগ্রহণ করতাম না। এ ছাড়া আমাকে জানানো হতো না। কেননা বৈঠকগুলো ইনফরমাল (অনানুষ্ঠানিক) ছিল। আমার অধস্তন কর্মকর্তাদের এসব বৈঠকে অংশ না নিতে নিবৃত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা মানেননি। এছাড়া আমি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। কারণ কামালের নেতৃত্বে বৈঠকগুলো হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। জেরার সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, বিএম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments