ডাকসু নির্বাচনের তফশীল থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল পর্যন্ত টানা দীর্ঘদিনের সরগরম পরিবেশ থেকে এবার শান্ত পরিবেশে ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। একদিন আগে ভোটগ্রহণ হলেও নানা নাটকীয়তায় ফলাফল ঘোষণা করতে করতে সেটি বুধবারে গড়িয়েছে। এর আগেরদিন মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ শেষেই শুরু হয় গণনার কাজ। সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন ডাকসুর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। নির্বাচনি ফলাফলে বিভিন্ন হল ও কেন্দ্রীয় সংসদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা প্রায় সবকটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ডাকসুর ২৮ পদের মধ্যে ২৩ টিতেই জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। ফলাফল শেষে পরাজিত প্রার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আপত্তি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা নিয়ে কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি ক্যাম্পাসে। ফলাফল ঘোষণার পর ভিপি পদে বিজয়ী সাদিক কায়েম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,আবাসন, গবেষণাসহ সব বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে। শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। ভিপি পদে পরাজিত ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে যা কিছু ছিল, তা একজন ছাত্রনেতা হিসেবেই প্রশাসনের কাছ থেকে আদায় করে নিতে যা যা করা দরকার, তা আমি করব।
ডাকসুর বিভিন্ন পদে বিজয়ী হলেন যারা:
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) শীর্ষ এই তিন পদেই জিতেছে শিবিরের প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী মো. আবু সাদিক কায়েম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ৩ হাজার ৮৮৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা হয়েছেন চতুর্থ। আর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আবদুল কাদের পঞ্চম হয়েছেন ১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে।
জিএস পদে শিবিরের প্রার্থী এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জিতেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বামপন্থী সাতটি ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্যানেল প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী ৪ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ২ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে হয়েছেন পঞ্চম।
এজিএস পদে শিবিরের প্রার্থী মুহা. মহিউদ্দীন খান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর আল হাদি মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী (গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা) তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী ৩ হাজার ৮ ভোট পেয়ে আছেন তৃতীয় অবস্থানে। ১ হাজার ৫১১ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদের জাবির আহমেদ জুবেল। আর ১ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।
অন্যান্য ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে জিতেছে শিবিরের প্যানেল। বাকি তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সানজিদা আহমেদ তন্বি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদে যুবাইর বিন নেছারী।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা ১০ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৪৭০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী নূমান আহমাদ চৌধুরী ১ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের ইকবাল হায়দার ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আহাদ বিন ইসলাম শোয়েব। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের মমিনুল ইসলাম ৩ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী উম্মে ছালমা জয়ী হয়েছেন। ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সুর্মী চাকমা। তৃতীয় হয়েছেন ছাত্রদলের প্রার্থী চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা, তাঁর ভোট ২ হাজার ৭০২। আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের জসীমউদ্দিন খান ৯ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ৩ হাজার ৯২২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের মোহাম্মদ সাকিব। আর ৩ হাজার ২৩১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ছাত্রদলের মেহেদী হাসান।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৭৮২ ভোট পেয়ে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। ২ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শিবিরের প্রার্থী নুরুল ইসলাম। ২ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদের ফারিয়া মতিন (ইলা)। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৭৭৮। তাঁকে সমর্থন জানিয়ে ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেল এই পদে প্রার্থী দেয়নি। তাঁর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে শিবিরের প্রার্থীর। শিবিরের প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন ৭ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে শিবিরের প্রার্থী আরমান হোসেন ৭ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ৩ হাজার ৮৩১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী মো. আল-আমিন সরকার। ৩ হাজার ৭৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় ছাত্রদলের চিমচিম্যা চাকমা। আর ৩ হাজার ৪৩৮ ভোট নিয়ে চতুর্থ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিন ফেরদৌস জামি।
ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী আসিফ আবদুল্লাহ। ৪ হাজার ৫০৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের রাফিজ খান। আর ৩ হাজার ৩১২ ভোট পেয়ে তৃতীয় ছাত্রদলের মো. সাইফ উল্লাহ। সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবাইর বিন নেছারী (এবি জুবায়ের) ৭ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ৩ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। শিবিরের প্রার্থী শরীফুল ইসলাম ২ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে তৃতীয়। আর ২ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের মহির আলম হয়েছেন চতুর্থ। ৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। ৪ হাজার ১২৩ ভোট পেয়ে এই পদে দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা। আর ৩ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় ছাত্রদলের মোহাম্মদ আরকানুল ইসলাম। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী এম এম আল মিনহাজ। স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন ২ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী সাব্বির আহমেদ ২ হাজার ৯৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে শিবিরের প্রার্থী মো. জাকারিয়া ১১ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আনিকা তাহসিনা ৩ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ৩ হাজার ৩৬৫ ভোট নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের নুসরাত জাহান নিসু।
এছাড়াও ডাকসুর ১৩টি সদস্যপদের মধ্যে ১১টিতেই জিতেছেন শিবিরের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। তাঁরা হলেন সাবিকুন নাহার তামান্না (১০ হাজার ৮৪ ভোট), সর্ব মিত্র চাকমা (৮ হাজার ৯৮৮ ভোট), ইমরান হোসাইন (৬ হাজার ২৫৬ ভোট), মোছা. আফসানা আক্তার (৫ হাজার ৭৪৭ ভোট), তাজিনুর রহমান (৫ হাজার ৬৯০ ভোট), রায়হান উদ্দীন (৫ হাজার ৮২ ভোট), মো. মিফতাহুল হোসাইন আল-মারুফ (৫ হাজার ১৫ ভোট), আনাস ইবনে মুনির (৫ হাজার ১৫ ভোট), মো. বেলাল হোসেন অপু (৪ হাজার ৮৬৫ ভোট), মো. রাইসুল ইসলাম (৪ হাজার ৫৩৫ ভোট) ও মো. শাহিনুর রহমান (৪ হাজার ৩৯০ ভোট)। এ ছাড়া বামপন্থী প্রতিরোধ পর্ষদ থেকে সদস্যপদে ৪ হাজার ৯০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হেমা চাকমা। ৪ হাজার ২০৯ ভোট পেয়ে সদস্যপদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া।
বিজয় উৎযাপনে দু’দিনের কর্মসূচি শিবিরের:
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ এ বিজয় উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বিজয়ের মাধ্যমে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। এ নির্বাচনে যারা বিভিন্ন প্যানেল থেকে ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
এতে আরও বলা হয়, মহান আল্লাহ তায়ালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্বের আমানত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে রক্ষার তাওফিক দান করুন।
ছাত্রশিবিরের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুকরিয়া আদায় করে দোয়া মাহফিল ও শব্বেদারি (নৈশ ইবাদত) বাস্তবায়ন; শহীদদের কবর জিয়ারত এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ছাত্রশিবিরের সব মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, শহর ও জেলা শাখাকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনও ধরনের আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা বা র্যালি আয়োজন না করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়।
নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তের দাবি পরাজিত প্রার্থীদের:
এদিকে ডাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করে তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)। বুধবার সংগঠনটির সদস্যসচিব জাহিদ আহসান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
এতে বলা হয়, নির্বাচনে একাধিক ব্যালট পেপার আগেই পূরণ অবস্থায় পাওয়া যায়। রোকেয়া হলে একটি নির্দিষ্ট সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল এবং সার্বক্ষণিক চালু থাকার কথা থাকলেও ভোট গণনার এলইডি স্ক্রিন একাধিকবার বন্ধ হয়ে যায়। এসব ঘটনায় নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অনিয়মের জন্য প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা দায়ী। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত প্রকাশ করেছে, আমরা সেই রায়কে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সবসময় সচেষ্ট থাকবে।
এছাড়াও স্থিতিশীল পরিবেশের মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করায় ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় সংগঠনটি। ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা সামনের বছরগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা রাখেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও ডাকসুর কেন্দ্রীয় সদস্যপদে প্রার্থী হয়েছিলেন মো. সজীব হোসাইন। তিনি শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী।
গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ভোট দেন নিজ এলাকার বড় ভাই মো. সম্রাট ইসলামকে। সজীবের অভিযোগ, সেই হল থেকে এই জিএস প্রার্থী কোনো ভোট পাননি।
স্বতন্ত্র হিসেবে ডাকসুতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন রাকিব হোসেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুসারে সজীব ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সম্রাট ইসলাম ২৪ ভোট পেয়েছেন এবং রাকিব হোসেন ৫৬৯ ভোট পেয়েছেন।



