রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় রবিবার রাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। ক্লিনিক মালিক আফরুজা শিল্পী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচজনকে সোমবার আদালতে হাজির করলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের সাত দিনের রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
গ্র্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাইফুল ইসলাম রাব্বি (২৮), হাসিবুর রহমান ফরহাদ (৩১), আবদুর রহমান মানিক (৩৭), আবু সুফিয়ান (২৯) ও মো. শাহিন (৩৮)। এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম রাব্বি মোহাম্মদপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলার চার নম্বর আসামি। তিনি মোহাম্মদপুর থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন।
হাসপাতালের মালিক আফরুজা শিল্পী আক্তার বলেন, আমার হাসপাতালে একটি মৃত শিশু জন্ম নেওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় কয়েকজন চাঁদা চেয়ে হুমকি দেয়। কয়েক দফায় তারা আমার এবং আমার ছেলের কাছে চাঁদা চাইছিল। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও কয়েকজন সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মব সৃষ্টি করে। আমি এ অবস্থা দেখে সেনাবাহিনীকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাঁচজনকে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করি।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে আমদের কাছে সেনাবাহিনী হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দায়ে একজন হাসপাতাল মালিক মামলার আবেদন করেছেন। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।
সোমবার তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক নাজমুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবী মাসুদ রানা ও সুমন পারভেজ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৯ মে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসা ঘেরাও করে উত্তেজিত জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। ৯৯৯-এ কল করে পরিস্থিতি জানিয়ে অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারে চাপ ও পুলিশের সঙ্গে বাগবিত-ায়ও জড়িয়ে পড়েন উপস্থিত কয়েকজন। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মোহাম্মদপুর থানার সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ কয়েকজনকে হেফাজতে নেয় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তারা।



