নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট নিতে এসে দুর্নীতির মামলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের পর ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের একটি দল মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান। শুনানির পর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ।
গত ৩১ জুলাই দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. নজরুল ইসলাম ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান থাকাকালে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে কোম্পানির নামে তোপখানা রোডস্থ ৩৬, তোপখানা রোডের ৩৩.৫৬ শতাংশ জমি ও ভবন ২০৭ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে ৪৫ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে অর্থের অবৈধ উৎস ও অবস্থান গোপন করতে বিভিন্ন ব্যাংকে হস্তান্তর করেন, যা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারা, দ-বিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধ।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলাম মোট ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক বলছে, এই লেনদেনের মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নজরুল ইসলাম, পরিচালক এম এ খালেক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। নজরুল ইসলামের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম ও বাবুল মিয়া।
নজরুল ইসলামের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম বলেন, হাই কোর্ট বিভাগ ‘কোম্পানি ম্যাটারে’ তার পাসপোর্ট জমা দিতে বলে। তার পাসপোর্টটি ছিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে। আমরা আদালত থেকে গতকাল পাসপোর্ট নেওয়ার পারমিশন পেয়েছিলাম। আজ পাসপোর্টটি রিসিভ করার জন্য তিনি আদালতে এসেছিলেন। সে অবস্থায় দুদক তাকে গ্রেপ্তার করে।



