রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া ‘কিলিং মিশন’-এ অংশ নিয়েছিল ৬ জন। সন্ত্রাসী পাতা সোহেল, ভাগ্নে মাসুম, দর্জি মামুন, বোমা কালু, জনি ও রোকন এসেছিল তিনটি তিন বাইকে। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের বি বøকের ৫ নম্বর রোডের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার এন্ড স্যানিটারি দোকানের সামনে। ওই দোকানের সামনে কিবরিয়াকে ধাওয়া করে সন্ত্রাসীরা। ধাওয়া খেয়ে কিবরিয়া বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার দোকানে আত্মরক্ষার্থে প্রবেশ করলে সেখানে তিন সন্ত্রাসী উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে হত্যা নিশ্চিত করার পর পালিয়ে যায়। পালানোর সময় কিলিং মিশনে অংশ নেয়া একজন মোটরসাইকেলে চড়তে না পেরে তিনি দৌড়াতে থাকেন। এক পর্যায়ে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় উঠে পালাতে চাইলে অটোরিকশাচালক রিকশা চালাতে অস্বীকার করে। এসময় ওই সন্ত্রাসী অটোরিকশা চালককে গুলি করে। জনতা ধাওয়া করে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তার নাম জনি। আটক জনিকে জিজ্ঞাসাবাদে কিবরিয়া কিলিং মিশনে কারা অংশ নিয়েছিল, তাদের নাম পেয়েছে পুলিশ। এদের সাথে সংযোগ আছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের।
ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও বন্ধুরা বলছে, এলাকায় তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যা করিয়েছে কিবরিয়াকে।
এদিকে, কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় গতকাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাবিহা আখতার বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় দর্জি মামুন, পাতা সোহেল, জনি, বোমা কালু, রোকন, ভাগ্নে মাসুমসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে।
পল্লবীর শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের টার্গেট ঃ
৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর পল্লবী এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের অনুসারীরা। জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং চাঁদা না পেয়ে গোলাগুলির ঘটনা প্রায় নিত্য নৈমত্তিক বিষয় হয়ে উঠেছে। মাস তিনেক আগে পল্লবীতে একটি ভবন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে মামুন। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের একটি নির্মানাধীন বাড়িতে গুলিরও ঘটনায় ঘটে। এসব অপরাধে মামুনের ভাই জামিলুর ও মশিউরের নামে থানায় একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকার উপরিভাগেই তাদের নাম রয়েছে। এরপরও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে দ্রæতই পরিচিতি পান গোলাম কিবরিয়া। এই অল্প সময়েই স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার লাভ করেন। আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরেই হত্যাকাÐ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিবরিয়া দ্রæতই স্থানীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিল। তাই প্রতিপক্ষরা এই হত্যাকাÐ ঘটিয়ে থাকতে পারে। কে বা কারা এই হত্যাকাÐের সঙ্গে জড়িত জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি। তারা শুধু এই হত্যাকাÐের বিচার দাবি করেছেন।
এর আগে সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সূত্র জানায়, নিহতের শরীরে ১৮টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিকালে লাশ নেয়া হয় পল্লবীতে কিবরিয়ার বাড়িতে। সেখানে লাশ দেখতে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কিবরিয়া ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন তরুন নেতা। কি কারণে, কারা তাকে হত্যা করেছে-বিষয়টি পুলিশের কাছে অনুরোধ রইল তদন্ত করার। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’ আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহবান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত জনি নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তকাজ চলছে, একইসঙ্গে দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঃ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার কাকরাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়বাদী যুবদল। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় যুবদল নেতাকর্মীরা হত্যাকান্ডের দ্রæত বিচার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন ¯েøাগান দেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক খন্দকার এনাম, সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম নয়নসহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের যুবদল নেতাকর্মীরা অংশ নেন।



