চাঁদা দ্বিগুন করেছেন বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মঈন উদ্দিন

বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) এ কে এম মঈন উদ্দিন বিরুদ্ধে মোটা অংকের মাসিক ঘুষের বিনিময়ে আইন, নিয়ম বা বিধি দ্বারা অনুমোদিত নয় স্পা ও শিশা বার পরিচালনার সহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্পা ও সিসা বার ব্যবসার আড়ালে মাদক বাণিজ্য ও অসামজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে রাজধানীর অভিযাত এলাকায়। টাকা উদ্ধার ও জমি সংক্রান্ত বিষযগুলো পুলিশ সদর দপ্তর এর কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্তে¡ও মামলার ভয় দেখিয়ে থানায় আটকে রেখে লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ায়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া কড়াইল বস্তির মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করার অভিয়োগও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে। সন্ধ্যা বা দিনের বেলায় কড়াইল বস্তির স্পটেগুলোতে মাদক বেচাকেনা চলে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার সময় ভালো পোস্টিং থাকলেও রাতারাতি ভোল পাল্টে বিএনপি বনে যাওয়ার অভিয়োগ পাওযা গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সুত্র জানায়, বনানী ‘৩৬০ ডিগ্রি সিসা লাউঞ্জে’ ছাড়াও কিউডিএস, ৩২ ডিগ্রী, সেলসিয়াস, আরগিল লাউন্জ, এস্কেটিক লাউঞ্জ নামে কয়েকটি অর্বৈধ্য শিশা বারের রয়েছে। রাজধানীতে সিসা বারের আড়ালে হরহামেশা চলছে ভয়ংকর মাদক সেবন। মদ, গাঁজা, হিরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহার হয় এসব বারে। ধনীর দুলাল-দুলালিরা রাত গভীর হলেই বিনোদনের জন্য এসব সিসা বারে ভিড় করে। সেখানে চলে অসামাজিক কার্যক্রম।

বনানী ‘৩৬০ ডিগ্রি সিসা লাউঞ্জে’ এর রাহাত হোসেন রাব্বী নামের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী হত্যা হওয়ার পর এ কে এম মঈন উদ্দিনের “ভাগ্য খুলে যায়। প্রভাব খাটিয়ে বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়ে দেয়। এরপর সবগেুলো অবৈধ্য সিসা বার গুলোতে মাসিক মাসোয়ারার রেট দিগুন করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি সিসা বার থেকে মাসে তিন থেকে চার লাখ ঘুষ নেন তিনি।

সিসা বার সুত্রগুলা জানিয়েছে, মঈন উদ্দিন ঘুষের টাকাগুলো তার “টাকাগুলো তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের নাম করে নিয়ে আসে।
বনানীতে রয়েছে কয়েকটি স্পা সাভিৃস সেগুলো হল আলোরী স্পা প্রিমিয়াম, স্পা সারিনি ও থাই ম্যাসেজ, হ্যাপি হাওয়ার স্পা, বনানী স্পা, বিøস স্পা বনানী, ঢাকা বডি কুইন স্পা, সাভিৃস এন্ড বডি ম্যাসেজ স্পা, গুলশান রোজ স্পা, জি স্পা বনানী সিন্গেচার ওয়ান ওয়ে থাই স্পা, স্পা এন্ড স্পা গুলোতে চলে অসামাজিক কার্যক্রম। সবগুলো স্পার নেই কোন অনুমোদন। এ কে এম মঈন উদ্দিন মাসিক মাসোয়ারার নিয়ে অসামাজিক কার্যক্রম চালনোর অনুমোদ দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্পাগুলো থেকে মাসে চার লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিয়োগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বনানীর একাধিক স্পা সেন্টার ও শিশা বার ব্যবহার করে একটি মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই অবৈধ ব্যবসায় অল্প বয়সী তরুণীদের ব্যবহার করা হয় বলেও জানা যায়।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)’র সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলামকে মানবপাচার অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইজিপিকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিয়োগ পাওয়া গেছে মোটা অংকের ঠাকার ঘুষের বিনিময়ে এ কে এম মঈন উদ্দিন তাকে ছেড়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে পুলিশের উদ্ধতন অফিসারদের কথা অমান্য করা অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত ১৩ নভেম্বর এ বিষয়ে তাকে আদালতে তলব করা হলে ঘটনা স্বীকার করে লিখিত ও মৌখিকভাবে আদালতে ক্ষমা চান ওসি মো. রাসেল সরোয়ার।

মামলাবাণিজ্য, বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে খারাপ আচরণ, হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে থানায় আটকে রেখে লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেয়ার অভিযোগ করেন তারা। তাকে দ্রæত অপসারণ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments