গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় শাহাদাত বরণকারী ৬ জন শান্তিরক্ষীর লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিমানবন্দরে শান্তিরক্ষীদের লাশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও লাশ গ্রহণকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি, সুদানের আবেইতে মোতায়েনরত জাতিসংঘ মিশন ইউনিসফা এর ফোর্স কমান্ডার প্রতিনিধি, চিফ কমিউনিটি লিয়াজো অফিসার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন), সেনা সদরের ওভারসিজ অপারেশন পরিদপ্তরের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মৃতদেহ গ্রহণকালে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং সকল সামরিক ব্যক্তিবর্গ শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করেন।
রবিবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টার যোগে প্রেরণ পূর্বক যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বর্বরোচিত ড্রোন হামলা চালায়। এ ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও ৯ জন আহত হন। নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মÐল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
৯ জন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল (লেভেল-৩ হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সকলেই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন নারী সদস্য রয়েছেন।
আহত সেনাসদস্যরা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, করপোরাল আফরোজা পারভিন, ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, সৈনিক চুমকি আক্তার ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান।
আইএসপিআর



