ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমান বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, এর মধ্যে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। এই ঘটনায় ৩ নারী গ্রেপ্তার হয়েছে।
মাদ্রাসার আড়ালে সেখানে জঙ্গি আস্তানা গড়ে উঠেছিলো বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ড্রামে রাখা প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক, ৪টি ককটেল সদৃশ বস্তু, ১টি ল্যাপটপ ও ২টি মনিটর উদ্ধার করে।
মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন পলাতক রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তার স্ত্রী আছিয়া (২৮), আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩০) এবং আসমানী খাতুন ওরফে আসমা (৩৪) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, শেখ আল আমিনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় ৭টি মামলা রয়েছে। তাকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে দুবার গ্রেফতার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে সে হাসনাবাদ এলাকায় এই আস্তানা গড়ে তোলে। গ্রেফতার হওয়া আসমানী খাতুনের বিরুদ্ধেও দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসনাবাদ এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। তখন দৌড়ে গিয়ে দেখি, মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের চারপাশের দেয়াল উড়ে গেছে। বিস্ফোরণে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে।’
ওই বাসিন্দা আরও বলেন, মাদ্রাসাটিতে ৩০ থেকে ৩৫ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এ কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হন। এর মধ্যে আছিয়া ও তার দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবারসহ তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিস্ফোরণে আমাদের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে। ঘরের ভেতরের আসবাবও ভেঙে পড়েছে।’
ভবনমালিক পারভীন বেগম বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। হারুন তার শ্যালক আলামিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তিনি মাঝেমধ্যে মাদ্রাসায় আসতেন। আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিতাম। কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি। আজ এসে দেখি, ভবনের চারপাশ উড়ে গেছে। পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে কেমিক্যাল, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।’
এসপি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ তরল রাসায়নিক ও ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
জানা গেছে, ২০২২ সালে শেখ আল আমিন চার কক্ষের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দুটি কক্ষে বসবাস এবং বাকি দুটি কক্ষে মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। মাদ্রাসায় ২৫-৩০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করত।



