মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে বোমাতঙ্ক

পরিত্যক্ত ব্যাগ ও বস্তায় মিলল জর্দার কৌটা, পান ও সাধারণ জিনিসপত্র; বিস্ফোরক নয় নিশ্চিত করল ডিএমপি

রাজধানীর ব্যস্ততম দুই এলাকা মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনকে ঘিরে শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুটি পৃথক স্থানে পরিত্যক্ত ব্যাগ ও বস্তাকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হলে মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

প্রায় তিন ঘণ্টার তৎপরতা শেষে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিশ্চিত করে, উদ্ধার হওয়া বস্তু দুটি কোনো ধরনের বিস্ফোরক নয়। পরিত্যক্ত ব্যাগে পাওয়া যায় একটি জর্দার কৌটা, পান ও কিছু সাধারণ ব্যবহার্য জিনিসপত্র। আর ফার্মগেটে উদ্ধার হওয়া বস্তার ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুজব বা অনিশ্চিত তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মিরপুর-১০ স্টেশনে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা

পুলিশ ও মেট্রোরেল সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ব্যাগটির অবস্থান জনবহুল এলাকায় হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং পথচারীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে সিটিটিসির বিশেষায়িত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে ব্যাগটি এক্স-রে স্ক্যান করে। স্ক্যানে একটি কৌটাসদৃশ বস্তু শনাক্ত হওয়ায় সেটিকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এরপর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরে ব্যাগ খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে ছিল একটি জর্দার কৌটা, পান এবং সাধারণ কিছু সামগ্রী। কোনো ধরনের বিস্ফোরক, ডেটোনেটর বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া যায়নি।

ফার্মগেটেও একই ধরনের আতঙ্ক

মিরপুর-১০-এ অভিযান চলাকালেই ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত বস্তা পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নেয়।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞরা বস্তাটি হাতে (হ্যান্ড এন্ট্রি) পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, এর ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু নেই। পরে স্বাভাবিক করা হয় পুরো এলাকা।

প্রায় ৫২ মিনিট মেট্রোরেল চলাচল ব্যাহত

ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে মেট্রোরেলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ৫২ মিনিট ট্রেন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। ফলে স্টেশনজুড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় এবং উভয় প্রান্তে ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করার পর পুনরায় মেট্রোরেলের স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায়।

ঘটনাস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

ঘটনার পর ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পুরো এলাকা কয়েক দফা তল্লাশি চালান, যাতে অন্য কোনো সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ব্যাগ ও বস্তা কে বা কারা সেখানে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকার আহ্বান

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, গণপরিবহন ও মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যাগ, বস্তা বা পরিত্যক্ত বস্তু দেখলে সেটিতে হাত না দিয়ে দ্রুত নিকটস্থ পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানাতে বলা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জনবহুল এলাকায় পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো সাধারণ মালামাল হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। তবুও যাত্রী ও জনসাধারণের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিটি ঘটনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হবে না, তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments