নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়াকান্দি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে অস্ত্রধারীদের নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মজিব উল্যাহ, তার মেয়ের জামাই মো. ইস্রাফিল ও ইস্রাফিলের বাবা তোফায়েল আহমেদ। গতকাল বুধবার বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকুড়িয়াকান্দি গ্রামের আনোয়ার উল্যার দুই ছেলে মজিব উল্যাহ ও প্রয়াত শরিফ উল্যার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশও হয়েছে। মঙ্গলবার বিরোধপূর্ণ জায়গায় মজিব উল্যার একটি ছাপড়া ঘর ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। এ সময় মজিব উল্যার মেয়ে শারমিনের চোখে আঘাত লাগে।
খবর পেয়ে পাশের গোপালপুর ইউনিয়নের রসূলপুর গ্রাম থেকে শারমিনের স্বামী মো. ইস্রাফিল কয়েকজন অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে তার চাচা-শ্বশুর শরিফ উল্যার পরিবারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এ সময় মুখোশধারীরা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং শরিফ উল্যার ঘরে ভাঙচুর চালায়।
হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি ঘরের ভেতর নারীদের চিৎকার করতে দেখা যায়। ঘরের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে এক যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার আশপাশে থাকা মুখোশধারীদের কেউ লাঠি দিয়ে মারধর এবং কেউ ইটপাটকেল ছুড়ে ঘরটির ভাঙচুর করছে। ভিডিওতে ‘গুলি কর, গুলি কর’ বলতেও শোনা যায়। এতে অন্তত দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।
এ ঘটনায় শরিফ উল্যার ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক ও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



