দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সহায়তার লক্ষ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৩০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে হাতিয়ার দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণকক্ষে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। ইভিসিআর প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে চর ঈশ্বর ইউনিয়ন, চর কিং ইউনিয়ন ও হাতিয়া পৌরসভার ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, আগাম পদক্ষেপ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং কীভাবে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও স্বেচ্ছাসেবকদের ধারণা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্ফিয়ার কী, স্ফিয়ারের মানবিকতার ঘোষণাপত্র, সুরক্ষা নীতিমালা ও মানবিকতার মূলনীতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ে আহত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধারের বিভিন্ন কৌশলও হাতে-কলমে শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অধিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা এবং দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাই অনেক সময় মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে কাজ করেন। তাই দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইভিসিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক—প্রান।



