মায়ের শয্যাপাশে মোনাজাত তারেক রহমানের

এক মাসের বেশী সময় যাবত রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার উন্নতি নেই। যেমন ছিলেন তেমনই আছেন। বর্তমানে তার শারিরীক অবস্থা অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অকস্মাৎ এক সাংবাদিক সম্মেলনে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তার আগে শনিবার রাতে হাসপাতালে আসেন তার পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিসিইউ’র ভেতরে মায়ের কেবিনের সামনে প্রায় বিশ মিনিট একা দাড়িয়ে অশ্রæসিক্ত হয়ে মোনাজাত করেন।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন,ওনার (খালেদা জিয়া) অবস্থার উন্নতি হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। ওনার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং উনি একটা সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন। সত্যিকার অর্থে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতাল) ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়ার পরবর্তীতে উনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়েছিল। স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতির কারণেই তাকে কেবিন থেকে সিসিইউ এবং সেখানে থেকে পরবর্তীতে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন,দেশি-বিদেশি চিকিৎসকেরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান তাতে যুক্ত রয়েছেন।

এদিকে এই ব্রিফিংয়ের কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল ভোর সাড়ে ছয়টায় বিএনপি মিডিয়া সেল ডা.জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে এক পোস্টে বলেছে, “বেগম খালেদা জিয়া নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দেশবাসীর কাছে মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান”।

মায়ের শয্যাপাশে অশ্রæসিক্ত মোনাজাত করলেন তারেক রহমান
এদিকে শনিবার দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে আবারও মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তারেক রহমান। দুই ঘণ্টার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে রাত ১১টা ৫৮মিনিটে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার স্বদেশের জমিনে পা দিয়েই মা-কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে মিনিট বিশেক মোনাজাত করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে মায়ের সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান,ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) দেখতে শনিবার রাতে হাসপাতালে যান তারেক রহমান।

সিসিইউ’র ভেতরে মায়ের কেবিনের সামনে প্রায় বিশ মিনিট একাই মোনাজাত করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ভেতরে কেউ প্রবেশ করেননি। সিসিইউ থেকে বেরিয়ে আরও ২০-২৫ মিনিট চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করেন তারেক রহমান। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসা সেবায় তিনি বেশ সন্তুষ্টির কথা জানান। এই চিকিৎসক বলেন, বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এখন বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। এই বয়সে পুরনো সব অসুখ সামনে এসেছে। কিছু রোগের যথা সময়ে চিকিৎসা পাননি তিনি। বয়সের কারণে এখন সব জটিলতা থেকে সেরে উঠা কঠিন হচ্ছে৷ এই ভালো তো এই খারাপ হচ্ছে শারিরীক অবস্থা।

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক জানান,তিনি এখনো সিসিইউতেই আছেন। উনার শারীরিক অবস্থার আপাতত বড় কোনো উন্নতি বা অবনতি হয়নি। তাকে এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষ করা হচ্ছে। আরেক সদস্য ডা. জাফর ইকবাল বলেন, ম্যাডাম আগের মতোই আছে। বলা যায় সবশেষ ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন যে আপডেট জানিয়েছিল, এখনও তেমনই আছে। আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছি। সেগুলোর রেজাল্ট আসলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এবং স্টাফ রূপা আক্তার। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সার্বক্ষণিক পাশে আছেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন তালুকদারের তত্ত¡াবধায়নে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত যে, ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। যেগুলোর চিকিৎসা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন। নিজ বাস ভবনে অবস্থানকালে তার শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভর্তি-পরবর্তী পরীক্ষা নিরীক্ষায় তার ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও কিডনির অবস্থার দ্রæত অবনতি হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গত ২৭ নভেম্বর তাকে নেওয়া হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত দেশি-বিদেশি ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনছেন। ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে ফেরার পর মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।






RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments