জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলে একটি ইসলামিক কোয়ালিশন সরকারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এ হিসাবে ইসলামিক কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্ব দিবে জামায়াত ইসলাম। জামায়াত ইসলামের এই বলয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যোগাযোগ থাকবে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ভারতের। বর্তমানে তুরস্কের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
তুরস্ক তার গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির সঙ্গে বেশিরভাগ যোগাযোগ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের। জামায়াত ইসলামীকে ভারতের ‘র’ এর একটি উইং প্রচ্ছন্নভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে। আরেকটি উইং আবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে সাপোর্ট দিচ্ছে।
একজন সেনা কর্মকর্তা জানান, তুরস্ক ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন, সাজোয়া যানবাহন, যন্ত্রপাতি, ভারি অস্ত্র সরবরাহের কাজ পেয়েছে। অপরদিকে, পাকিস্তান বাংলাদেশে জেএফ-১৭সি ২০ টি বিমান সরবরাহের কাজ পেয়েছে। এটা ২.২ বিলিয়ন ডলারের কাজ। এর মধ্যে ১০ টি বিমান প্রথম দফায় বাংলাদেশে আসবে। এসব বিমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রামু ১০ ডিভিশনে থাকবে বলে জানা গেছে।

গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বাংলাদেশে আগমনের দিন ঢাকার অদূরে কেরাণীগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটিও সন্দেহের দিকে দেখছে সাধারণ মানুষ। কারণ ৫ আগষ্টের পর ড. ইউনুস সরকারের প্রশাসন এদেশে জঙ্গি হামলা ও জঙ্গি কার্যক্রমকে আওয়ামী লীগের সাজানো ঘটনা বলে আসছে। ৫ আগষ্টের পর দেশের সকল কারাগার থেকে জঙ্গিদের জামিন দিয়ে মুক্তি দেয়া হয়।
তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রায় বেশিলভাগই চুড়ান্ত রিপোর্ট (ফাইনাল রিপোর্ট) দেয়া হয়েছে। সেখানে ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের আগমনের দিন হঠাৎ মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণ ও জেএমবির ঘাঁটি বা আস্তানা বলে পুলিশের তথ্য দেয়ার বিষয়টি অনেকেই মনে করছে, সাধারণ ভোটারদের জামায়াতের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়ার জন্যই এ ঘটনাটি সাজানো হয়েছে।
আবার, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এই দেশে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর পেছনে কিছুটা হাত থাকতে পারে। কারণ, হিন্দু কিলিং হলে, হিন্দু ভোট জামায়াতের দিকে ধাবিত হবে। এতে করে হিন্দু ভোটাররা তাদের ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে বিএনপি বাদে জামায়াত ইসলামীকে ভোট দিবে। এতে জামায়াতের ৭ ভাগ ভোট অটো বেড়ে যাবে।
মূলত জামায়াত ইসলামীকে দিয়ে অন্যান্য ইসলামিক দলগুলোর সাথে এ্যালায়েন্স করে ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে বৈতরনী পাড়ি দেওয়ার একটা পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনে জামায়াত ইসলাম ৮০ টি থেকে ১১০ টি আসন পেতে পারে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৭২ টি আসনের মধ্যে ৪৫ টি আসনেই জামায়াত ইসলাম জয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
অপরদিকে, বিএনপি ৯০ টি থেকে ১৩০ টি আসনে জয়ী হতে পারে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য এককভাবে কোনো দলই ১৫০ টি আসনে জয়ী হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে বিএনপি হয়তো সরকার গঠন নাও করতে পারে।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছে।
যদিও ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আসার কোনো সুযোগ নাই। তাই আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে যাবে না। কর্মী ও সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গেলে ওইসব ভোটাররা বেশিরভাগই বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিতেন। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় জামায়াতের একটি বড় প্লাস পয়েন্ট হয়েছে। বিএনপির ১০০ আসনে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এসব আসনে জামায়াত যদি সংগঠিত থাকে, তাহলে বেশিরভাগ আসনে জামায়াত জিতে যাবে। সে ক্ষেত্রে আগামী সরকার জামায়াত ইসলাম গঠন করতে পারে।



