রাজশাহী নগরীর হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত নওগাঁ জেলায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। পরে জনরোষ থেকে বাঁচাতে আরএমপি চন্দ্রিমা থানা-পুলিশের কাছে তাঁকে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে নওগাঁর বাসিন্দা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আনিকা আক্তার চন্দ্রিমা থানায় পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁর অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। আটক মাহবুব ও তার ষষ্ঠ স্ত্রী আনিকা আক্তারকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পোষ্য মেয়ের। তবে দরজা ভাঙার পর ফ্ল্যাটে তার ভাড়াটিয়া ছাড়া শুধু পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলম ও আনিকা আক্তারকে পাওয়া যায়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামীর অবস্থানের খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই ফ্ল্যাটে আসেন আনিকা আক্তার। তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করলেও মাহবুব দরজা খোলেননি। একপর্যায়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে আনিকা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। জনতার চাপে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দরজা ভেঙে পরিদর্শক মাহবুব আলমসহ তার সঙ্গিনীকে বের করে আনেন। এ সময় মাহবুব দাবি করেন, আনিকা আক্তারকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মাহবুব আলম পুলিশ পরিদর্শক হোসনে আরাকে বিয়ে করেছিলেন। তবে মাহবুবের চরিত্র নিয়ে তার প্রতিবাদ করায় তাদের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর হোসনে আরা পুনরায় বিয়ে করলে মাহবুব তাকে ও তার নতুন স্বামীকে নিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করার অভিযোগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরপর ২০২০ সালে পরিদর্শক মাহবুব আলম আরএমপির পুলিশ সার্জেন্ট সাহেবা আক্তারকে বিয়ে করেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার চেয়ে সার্জেন্ট সাহেবা রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পর পরিদর্শক মাহবুবকে নওগাঁ জেলা পুলিশে বদলি এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থাকা অবস্থায় মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
আনিকা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাহবুব চরিত্রহীন পুলিশ। তিনি যেখানে যান, সেখানেই নারীদের ফুসলিয়ে বিয়ে করেন। আরও অনেক নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মাহবুব তাকেও ফুসলিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর মাহবুব তাকে ফুসলিয়ে তার নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখেন। তখন তিনি নিজের মান-সম্মানের ভয়ে চুপ করে যান। তিনি বলেন, মাহবুব আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।’
চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে আছেন। আনিকা আক্তারের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিবেদন লেখা হলেও পরিদর্শক মাহবুব আলম ও আনিকা আক্তারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, পরিদর্শক মাহবুব আলম কোনো ছুটি নেননি। অনুমতি ছাড়াই তিনি রাজশাহী গেছেন, যা অপরাধ। তাকে আটক করার খবর নওগাঁ পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



