প্রকল্প পাশের আগেই ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওই প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে। ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ শিরোনামে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে ৬ কর্মকর্তা ও ২৪ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে তাদের নিয়োগ দেয়ার এখন পর্যন্ত তারা মাসের বেতন উত্তোলন করছেন।
ধর্ম মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ মে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা শিরোনামে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য একনেকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ১ জুন প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একনেকে অনুমোদনের আগে ২০২৫ সালে ৭ মে ওই প্রকল্পে ৬ জন কর্মকর্তা এবং ২৪ জন কর্মচারীসহ ৩৮ জনকে নিয়োগ দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিধিবদ্ধ কমিটি দ্বারা নিয়োগের আগেই প্রকল্পের তহবিল থেকে তাদের অনুক‚লে বেতন-ভাতাও পরিশোধ করা হয়।
প্রকল্পের সাধারন নীতিমালা অনুযায়ি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে দরখাস্ত আহŸান করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, তথ্য ঢেকে রাখতে প্রথম ধাপে ৯ম গ্রেডের ৬ জন সহকারী পরিচালক ও ১০ম গ্রেডের ৯ জন ফিল্ড অফিসারকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, যেখানে ৩৮ জনের কাউকে রাখা হয়নি। তাদরেকে পরবর্তী ধাপগুলোতে ডাকা হবে সূত্র জানিয়েছে।
বেতন-ভাতা পাওয়া ফিল্ড অফিসার পদের একজন বলেন, আবেদনের পর গত বছরের মে মাসে আমাকে ল²ীপুর জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়। নতুন নিয়োগ নয়, বরং তাকে পূনর্বহাল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পূনর্বহাল হলে বকেয়া পেয়েছেন কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ বকেয়া দিতে চাইছে না।
প্রকল্প অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধান রাহনুমা নাহিদ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, যেখানে প্রকল্পই অনুমোদন হয়নি সেখানে নিয়োগের প্রসঙ্গই তো আসে না। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশে মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার নামে একজন প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরে ৪ টি আদেশের কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। স্বাক্ষরকারী প্রকল্প পরিচালক ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত কোনো কর্মকর্তা নন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় শাখার ৬ষ্ঠ গ্রেডের একজন ননক্যাডার পরিচালক ছিলেন। প্রকল্প অনুমোদনের স্বার্থে স্বাভাবিক কাজ বাস্তবায়নের জন্য তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব পেয়ে তিনি ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে প্রকল্প পাশের আগেই এবং বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই জনবল নিয়োগ সহ বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগ ও বেতন দেওয়ার এখতিয়ার তার আছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, তাদেরকে বহাল করা হয়েছে। এরা বিগত সরকারের সময় বৈষম্যের শিকার হয়ে চাকরিচ্যুত ছিলো। কর্তৃপক্ষের সম্মতিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবহিত আছে।
প্র্রতিবেদকের হাতে আসা আদেশে পোস্টিংয়ের ঘরে পূর্ববর্তী বা বিদ্যমান কর্মস্থলের কথা উল্লেখ নেই। কেবল বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে যোগদান না করলে আদেশ বাতিল বলে গন্য হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-৭ শাখার যুগ্মসচিব ও নিয়োগ কমিটির সদস্য মহম্মদ রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্প পাশ হওয়ার আগে জনবল নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন তারা কোন বিধির বলে নিয়োগ দিচ্ছে আমার জানা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভালো ব্যাখ্যা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা ধর্ম মন্ত্রণালয় দিতে পারবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন চাকরিতে ছিলো না। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা বৈষম্যের শিকার বলে চাকরি ফেরেত চেয়ে আপীল আবেদন করেছে। তার আবেদন বিবেচনায় নিয়ে তাকে বহাল করা হয়েছে। এটি নিয়োগ নয়।
তাদেরকে বহাল করা হলে তো দীর্ঘ ১৭ বছরের বকেয়া প্রাপ্য হবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না তারা সেটি পাবেন না।
যদি বকেয়া না পান তাহলে বহাল হলেন কোন বিধিতে এবং দীর্ঘ বছর চাকরিতে থাকার ধারাবাহিকতা রক্ষা হলো কীসের আলোকে- এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, আমরা নানা দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব যথাযথ রয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষও এসব জানেন।



