নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ ও পদায়ন-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল রবিবার এ নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে। নীতিমালায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে নিয়োগের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা ও বাছাইপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালাটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এমডি, ডিএমডি ও জিএম পদে নিয়োগ ও পদায়ন নীতিমালা-২০২৬।’ ব্যাংকের নিজস্ব চাকরি বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এসব পদের ক্ষেত্রে এ নীতিমালাই কার্যকর থাকবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকের এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগ দেওয়া হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের প্রার্থীকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে।
শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রার্থীর ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাকে কোনো ব্যাংকে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সিইও হতে হবে, অথবা সিইও পদের অব্যবহিত আগের পদে অন্তত দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং কার্যক্রম, শরিয়াহ গভর্ন্যান্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স প্রোডাক্টস ও হিসাবায়ন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে। বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ থেকে ৬৫ বছর।
ডিএমডি পদের প্রার্থীদের কমপক্ষে ১৯ বছরের ব্যাংকিং এবং অব্যবহিত আগের পদে অন্তত ২ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ পদের জন্য বয়সসীমা ৪৫ থেকে ৬২ বছর। ইসলামি ব্যাংকিং, শরিয়াহ গভর্ন্যান্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গভীর জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জিএম পদের ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জিএম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিলুপ্ত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এক্সিম, গেøাবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও যোগ্যতার ভিত্তিতে জিএম নিয়োগ দেওয়া যাবে। এ পদের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বছর।
নীতিমালায় তিনটি পদের ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের জন্য কঠোর নৈতিক ও আইনগত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী ঋণখেলাপি হলে, আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকলে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে অথবা প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী এ নিয়োগ সম্পন্ন হবে সাত ধাপে। এগুলো হলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদনপত্র গ্রহণ ও প্রাথমিক বাছাই, সাক্ষাৎকারের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, কাগজপত্র মূল্যায়ন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, চূড়ান্ত নির্বাচন ও নিয়োগের জন্য মনোনয়ন এবং পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করা।
আবেদন যাচাই, কাগজপত্র মূল্যায়ন, সাক্ষাৎকার ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। নীতিমালায় উল্লেখ না থাকা বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।



