রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে হাতাহাতির মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা পরে শহীদ মামুন মিয়া ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় ছাত্রাবাসের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে হলের দরজা, জানালার কাচ ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রদলের একটি পক্ষ কড়াইল বস্তি থেকে বহিরাগত লোকজন এনে ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজ প্রশাসন বনানী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও জলিল আদিককে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লা, শিহাব উদ্দিন সিয়াম ও জিহাদ হাওলাদারের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। পাশাপাশি ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কলেজ প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শহীদ মামুন মিয়া ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ফারুকুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তিতুমীর ঐক্য। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষাঙ্গন জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির কেন্দ্র হলেও সেখানে দলীয় কোন্দল ও ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে অস্ত্র ও সহিংসতার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের সহিংসতা ছাত্ররাজনীতির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিবৃতিতে তিতুমীর ঐক্য তিনটি দাবি উত্থাপন করে- সংঘর্ষে জড়িত সকল দোষীকে শনাক্ত করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্রাবাসে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।



