গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে ২৭৪টি সহিংস ঘটনা আর পাঁচটি হত্যাকা-ের তথ্য দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এমন সংঘর্ষের সংখ্যা ৮৯টি।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি, প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা ১৫টি এবং হত্যাকা-ের ঘটনা পাঁচটি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা পাওয়া গেছে তিনটি।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, এসময়ে নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০টি।
অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ছিল ১৭টি। এছাড়া হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা একটি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সহিংসতার ঘটনা ৭০টি।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর আগের তিন নির্বাচনের সময়কার সহিংসতার তুলনা করে বলেছে, সবশেষ তিনটি সংসদ নির্বাচনের সহিংসতার চিত্রেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার মোট ঘটনা ছিল ৫৩০টি। এসব ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩১৫ জন আহত হয়েছেন।
একাদশ নির্বাচনে ৪১৪টি সহিংসতার ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৭৮০ জন আহত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৪টি ঘটনা। এসব ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৪৬০ জন আহত হন। যানবাহন ও স্থাপনায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ক্ষেত্রেও ওই নির্বাচনের সময়গুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি নিক্ষেপের ঘটনাও বিভিন্ন নির্বাচনি সময়ে নথিভুক্ত হয়েছে।



