বিশ্বের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এড হির্স।
তিনি বলেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালীর অর্ধেক তেল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, সম্ভবত কারণ মার্কিন নৌবাহিনী আর ট্যাংকারগুলোকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে পারছে না, তাহলে অন্তত কিছু সময়ের জন্য আমরা তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে ওঠার সম্ভাবনা দেখতে পারি।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘এনএলজির বাজারে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব দেখা গেছে, প্রথম দিনে দাম ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’
এড হির্স আরো বলেন, ‘ডিজেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিছু দেশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখন পেট্রোলিয়াম কিনতে শুরু করেছে, যা কিছু মার্কিন রাজ্যের ভবিষ্যত অর্ডারকেও প্রভাবিত করছে।’
বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।
ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।



