আজ চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচী শুরু হতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন। এদিন একযোগে ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচির সূচনা করা হবে এবং তা ধারাবাহিকভাবে চলবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা এর আওতায় আসবে।

প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত নারীরা এ কার্ড পাবেন। এ কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৬ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে ২ কোটি দরিদ্র পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া এই কর্মসূচি চালু হলে সব নগদ ভাতা ও টিসিবির সহায়তা এক কার্ডের অধীনে চলে আসবে।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা ছিল দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এ কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে-‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সেখানে বলা আছে-ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার এ কার্ড পাবেন। এছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠী- হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিকও পাবেন এ কার্ড।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এসময় আমির খসরু বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। তাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পরা হতদরিদ্র পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচীর আওতায় আনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বাস্তবায়িত ভাতা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ডেলিভারিতে দুর্নীতি হয়ে থাকে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনীতিকরনের সুযোগ নেই এবং কোন দুর্নীতির সুযোগ নেই। এ কার্যক্রম সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য বদ্ধপরিকর। প্রান্তিক হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। এছারা অর্থ ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম হওয়া এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই ভাতাটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।

সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসাবে স্থানান্তরিত করা হবে।

একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলোও পাওয়া যাবে। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এই গাইডলাইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য দেশের যে সকল এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি (শহরে বস্তি), চট্টগ্রামের পটিয়া (শিল্প এলাকা), বান্দরবানের লামা (পার্বত্য এলাকা), সুনামগঞ্জের দিরাই (হাওর এলাকা) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের (সীমান্তবর্তী এলাকা) মতো বৈচিত্র্যময় অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ এবং অনগ্রসরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments