বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুলিশে প্রায় ১ লাখ কনস্টেবল (ট্রেইনি রিক্রুটমেন্ট কনস্টেবল-টিআরসি ) নিয়োগ হয়। ওই সময় এই নিয়োগে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এক জেলার বাসিন্দাকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়।
আবার রাজনৈতিক সুপারিশের তালিকা ধরে কনস্টেবল নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাবার পরও গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা বলে অনেককে চাকরিতে নিয়োগ না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলে পৃথক কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করে উত্তীর্ণ দেখিয়ে কনস্টেবল নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আবার লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় জানার পর ওই প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া হয়েছে।
বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিগত ১০ বছরে পুলিশে প্রায় ১ লাখ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত এক কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি ( রিক্রুটমেন্ট এ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) মোঃ আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় দেশের সকল জেলায় ৬৪ টি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলা পুলিশ সুপারকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ ও আরওআই/আরও-১।
কমিটিকে তদন্ত বিষয়ে যে ছয়টি বিষয় তদন্ত করতে বলা হয়েছে, সেসব হলো, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি প্রাপ্তি সংক্রান্ত; অর্থাৎ ভিন্ন জেলার প্রার্থীকে শুধুমাত্র জমি ক্রয়ের ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে নিয়োগ করা হয়েছে কি না? অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলে পৃথক কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত।
প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগযোগ্য বা নিয়োগ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কি না? লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিকতা অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়ে চাকরি পেয়েছে কি না?
প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিষয় এবং অসাধু পুলিশ সদস্য, দালালচক্র, প্রতারকচক্র তথা পরীক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কতটা তৎপর ছিলেন?
কমিটিকে এসব বিষয় তদন্ত করে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি জেলার তদন্ত রিপোর্ট পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।



