রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন নারী যাত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকাল ৫ টায় ঈদে ঘরমুখী মানুষের প্রচন্ড ভীড়ে সদরঘাট টার্মিনালের ১৪ নং পন্টুনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সোহেল ফকির (২২)। তার বাবার নাম মিরাজ ফকির। বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘আসা যাওয়া-৫’ (ঢাকা-ইলিশা) লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় সেটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ‘এম ভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) নামে আরেক লঞ্চ। তখন ধাক্কা দেওয়া লঞ্চের সামনের অংশের আঘাতে অপেক্ষমান লঞ্চের ওই যাত্রী দুজন পিষ্ট হন। এর মধ্যে এক নারী গুরুতর আহত অবস্থায় পানিতে পড়ে যান।

আরেকটি লঞ্চের বাহিরের পাটাতনের ওপর সোহেল ফকির নামে যাত্রীর দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা সোহেল ফকিরকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পানিতে পড়ে যাওয়া নারীর নাম বোরা আক্তার (২০)।
এদিকে, ঘটনার পরপর ধাক্কা দেয়া লঞ্চ এম ভি জাকির সম্রাট-৩ সদরঘাট এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, বোরা আক্তার বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেছিলেন। এ সময় পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ঘষাঘষির মধ্যে হঠাৎ তিনি নদীতে পড়ে যান। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ ফয়সাল আহমেদ বলেন, পণ্টুনে অপেক্ষারত একটি লঞ্চকে আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে একটি ট্রলার পড়ে যায়। এই ঘটনায় একজন নারী পানিতে পড়ে যান। আরেক জন যাত্রী আহত হয়ে আরেকটি লঞ্চের বাহিরের পাটাতনে পড়ে যান।
এ বিষয়ে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আসা যাওয়া- ৫’ লঞ্চের সঙ্গে ট্রলারের সংঘর্ষে সম্ভবত একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আরেকজন আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল ঈদের আগের দিন একটি লঞ্চ পন্টুনে বেঁধে রাখা দুই লঞ্চের মাঝে সজোরে চালিয়ে দিলে আরেকটি লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে যাত্রীর গায়ে লেগে ৫ জন নিহত হয়।



