রংপুরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাস, ট্রাকটর, পিকআপ ভ্যানসহ মোটরসাইকেল চালকরা। পাম্প মালিকরা জানায়, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না যার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মোটরসাইকেল চালকদের। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দেখা যায়, নগরীর এ রহমান পাম্প, ছালেক পেট্রোল পাম্প, শাপলা পেট্রোল পাম্প, সিটি পেট্রোল পাম্পসহ জেলার আট উপজেলর প্রায় পাম্পেই মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক পাম্প কালো কাপড়ে ঢাকা দেখা যায়।
পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। দুই ঘন্টা তিন ঘন্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে তারা পেট্রোল সংগ্রহ করছেন।
দুই ঘন্টা ধরে অপেক্ষার পর তেল পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১‘শ টাকার। কোথাও কোথাও অপেক্ষার পর জানো হেেচ্ছ তেল শেষ হয়েছে। যার কারনে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেল পাম্প কর্মচারী ও মালিকদের সাথে প্রায় বাকবিতন্ডর সৃষ্টি দেখা গেছে।

রংপুর নগরীর এ রহমান পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী সাহাদাত হোসেন ক্ষোভ বলেন, দুপুরের খাবারের সময় হাতে নিয়ে পাম্পে এসেছি। এক ঘণ্টা হলো তবু লাইন শেষ হচ্ছে না। কখন যে তেল পাবো সেই সময়ের কোনো ঠিক নাই।
রিপন মিয়া বলেন, শ্বশুর বাড়ি যাবো। কমপক্ষে ৫‘শ টাকার তেল লাগবে। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল পেলাম মাত্র ১‘শ টাকার।এই ১‘শ টাকার তেল দিয়ে কীভাবে শশুর বাড়িতে যাবো।
রাশেদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা তো তেল বাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে খায় না। প্রয়োজনে তো তেল দরকার সেটাও পাচ্ছি না। অথচ মন্ত্রী অনবরত তেলের সংকট নাই বলে মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছেন।
পেট্রোল পাম্প অনার্স এসোসিয়েশনকে রংপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ দিচ্ছে। যার কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুরে যে তেল রয়েছে সেটাও দ্রুত সরবরাহ শেষ হওয়ার পথে।
মোটরসাইকেল চালকরা অনেকে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তেল মজুত করছেন এমন আশঙ্কা থেকে ১‘শ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট থাকবে।তিনি জেলার জ¦ালানী তেলের পাম্পের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
যমুনা পেট্রোলিয়ামে রংপুর অঞ্চলের সেলস অফিসার মোহসিন আলী জানান, ঢাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমার কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।



