বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে সমন্বিত (বেøন্ডেড) শিক্ষা পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) প্রতি সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব তোলা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা নেবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁরা আলোচনা করছেন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি–সংকট), তার মানে বাংলাদেশও। তাঁরা কেউ জানেন না, কত দিন এই সংকট চলবে। সেই কারণে তাঁরা ভাবছেন, দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর-এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনা।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে ছুটি এবং বিভিন্ন আন্দোলন মিলিয়ে নির্ধারিত কিছু ক্লাস হয়নি। এ জন্য এখন স্কুলকে সপ্তাহে ছয় দিন করা হয়েছে (পরবর্তী ১০টি শনিবার)। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি-সংকটের কারণে তাঁরা ভাবছেন, অনলাইন ও সশরীর-এই মিশ্র পদ্ধতি করা যায় কি না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে তাঁরা জরিপ করে দেখেছেন, ৫৫ শতাংশ অংশীজন চাচ্ছেন অনলাইনে যাওয়ার জন্য। কিন্ত পুরোপুরি অনলাইনে গেলে অসামাজিক হয়ে যাবে কি না, সেটাও ভাবছেন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব দেবেন এবং সেখানে আলোচনা হবে।
তারপর এর সিদ্ধান্ত আসবে। তাঁরা এটা (অনলাইন ও সশরীর ক্লাস) চিন্তা করছেন। সপ্তাহের ছয় দিনের মধ্যে কয় দিন সশরীর এবং কয় দিন অনলাইনে ক্লাস হবে, সে বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে সেটি সুনির্দিষ্ট করেননি শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, তাঁরা মিশ্র পদ্ধতি করতে চাচ্ছেন। তাঁরা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেবেন, কিন্তু মন্ত্রিসভা যেটা গ্রহণ করবে, সেটাই হবে। এখনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় বাদে সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে তাঁরা মহানগরীর কথা বলছেন।
প্রসঙ্গত, ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের হামলার কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি-সংকটে পড়েছে প্রায় পুরো বিশ্ব। সংকটে আছে বাংলাদেশও। জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস এড়িয়ে অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়ে আলোচনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, বোর্ড কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাসের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন হবে অফলাইনে।
তারা বলছেন, যদি কোনো সমস্যা সামনে আসে সংশোধন করা হবে। শিক্ষকরা স্কুলে এসে ক্লাস নেবেন। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে হবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস। তবে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ বুধবার জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী নানান নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে এখন থেকে দেশের স্কুলগুলো পাঁচ দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে ছয় দিন খোলা রেখে অন্তত অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাস চালু রাখার চিন্তা রয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চালুর ব্যাপারে পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজধানীতে স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খোঁজার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড় কমিয়ে কীভাবে সুশৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে দ্রæত প্রস্তাবনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।



