বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম বৈঠকে ৫টি প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এ সভার আলোচ্যসূচিতে ১৯টি প্রকল্প রাখা ছিল।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এদিন ১৯টি প্রকল্প উঠার কথা ছিল, ৭টির আলোচনার মধ্যেই মুলতবি রাখা হয়। আগামী সপ্তাহে আবার বসবে। সবমিলিয়ে গতকাল ৫টি সংশেধিত প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে একনেক সভা শেষ হয়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, অনেক বিশ্লেষণ করতে হচ্ছে বলে এজেন্ডার ১৯টির মধ্যে ৭টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়েছে। জনগণের টাকার কথা মাথায় রেখে খুব সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, অপ্রয়োজনীয় কি না এসব অনেক কিছু বিবেচনা করতে হচ্ছে। ৭টির মধ্যে দু-একটি বিবেচনার জন্য দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি পাস হয়েছে।
গতকাল একনেক সভায় ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯২ কোটি টাকা ৫৯ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুরোর মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প ৩টি ও মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ২টি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১ম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০৮২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ৩৬৮ কোট টাকা বৃদ্ধি করে ১৪৫০ কোটি টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি জুন ২০২৭ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (সিডিএসপি-৪) প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ৩ কোট ৪৮ লাখ টাকা কমিয়ে ৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকা করা হয়েছে। সভায় ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থ বারের মতো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২০১৭ সালে শুরু হওয় প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সভায় শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২): ৮টি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ২য় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সভায় গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের মেয়াদ ব্যয় বৃদ্ধিরেকে ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি চলতি বছর জুনে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


