সরকারের দর্শন হলো ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদকে জানিয়েছেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

গতকাল বুধবার সংসদে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকালে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর থাকলেও তা টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে।

মাহবুব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১০টি জেলা ও ৩টি সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা সরকারের আছে।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান জানান, এই এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ছে, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে, সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ, সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটউট। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান সংসদকে জানান, শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরেই প্রাথমিকে ২ লাখ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে স্কুলড্রেস, সব উপজেলায় প্রাথমিকে স্কুল ফিডিং/মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান, সেলক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ করা হবে। সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং/মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে বিএনপির অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে সংসদ নেতা জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই ফাই’ চালু করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লাটার, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইবেজড ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। এলক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

দুই দশকের জন্য পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে। সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান সংসদকে জানান, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ৫টি প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে। সেগুলো হলো- পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন, ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার ঘটানো, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশ এবং ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ এবং গ্রাম পর্যটন উন্নয়ন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments