‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবিরের “গুপ্ত রাজনীতি” ইস্যুতে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের পর জাতীয় সংসদেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এক পর্যায়ে দুই জোটের সংসদ সদস্যদেরকে নিবৃত করতে স্পিকার বিশেষ অনুরোধ জানালেও পুরো সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষনের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলেন।

জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা স্পিকারকে সম্মোধন করে বলেন, আপনি শুনেছেন, চট্টগ্রামে গতকাল সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে, গুপ্ত, ছাত্রদল লিখেছে গুপ্ত, সেই জন্যই তারা গুপ্ত শব্দকে উল্লেখ করে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে।

আজকে আমাদের বিরোধীদলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছেন, এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। চট্টগ্রামের ছাত্রদল কী কথা বলেছে, গুপ্ত বলেছে। এই সংসদে আমরা নির্বাচিত হয়ে আসছি কথা বলার জন্য। বিরোধীদলের ভাইয়েরা আজকে কন্ঠ চিপে ধরতে চায় ফ্যাসিস্টের মত। চট্টগ্রামের ছাত্রদল একটা শব্দ লিখেছিল গুপ্ত। এই গুপ্ত শব্দের সাথে তো কোনভাবেই সংশ্লিষ্টতা নেই।

সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, আমি বলতে চাই আজকে সংসদে আমাদের সম্মানিত বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবে না। এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে।

বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই, আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না। অতএব আমি তাদেরকে সবিনয়ে অনুরোধ করব, সরকারকে সাহায্য করুন, ফ্যাসিস্টের মত, বিভিন্ন দলের মত, বাংলাদেশকে অস্থীতিশীল করা ঠিক হবে না।

এসময় জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা হৈ চৈ করতে থাকেন। বিরোধীদলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, বিরোধীদলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই, আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না। এসময় জামায়াতের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করতে থাকেন।

এ সময় স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, তাদের কথাবার্তার সবাই সবটাই পছন্দ হবে এমন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু অনুগ্রহ করে শুনুন আমার কথাটি শুনুন। এখন আপনাদের একজন বক্তাকে আমি দিচ্ছি। উনি (বিরোধী দলীয় নেতা) যা যা বলেছে প্রয়োজন হলে তারা আপনারা জবাব দিতে পারবেন। বক্তব্যের মাধ্যমে জবাব দেন। একজন বক্তাকে বক্তব্যের সময় অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।

স্পিকার বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল বারী সর্দারকে কথা বলার জন্য আহ্বান জানালে বিরোধীদলীয় নেতা উঠে দাঁড়ান। তখন স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতাকে বলেন, বিরোধী দলের নেতা বলেন। কিন্তু এই বক্তব্যের মাধ্যমেই জবাব দিবেন এটাই আমরা আশা করি। কাউকে ডিস্টার্ব করবেন না। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এটা এক্সপ্যাঞ্জ করা হোক।

একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভিতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি এবং আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না মানে কী? তিনি কি উসকাইয়া দিচ্ছেন জনগণকে? বিশৃঙ্খলার দিকে? এগুলা সংসদীয় আচরণ না।

এ সময় স্পিকার বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনও অসংসদীয় কোনও ভাষা থাকে সেটা আমরা এক্সপঞ্জ করবো, যদি থাকে। আর দ্বিতীয়ত, যেসব বক্তব্য এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকবো না। এইগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। এগুলা আপনারা বক্তৃতা যখন দেবেন এর জবাব দিবেন, কিন্তু বক্তব্য রাখার সময় অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments