অধস্তন আদালতের বিচারকদের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রায় আট বছর আগে কতিপয় নির্দেশনা দিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্ট। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিলো, কোনো অবস্থাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপ্রয়োজনীয় কোনো স্ট্যাটাস, মন্তব্য শেয়ার না করতে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। এমনকি বিচারকদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর পাশাপাশি প্রচলিত অন্যান্য আইন ও বিধি–বিধান প্রযোজ্য হবে বলেও ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করেছিলো সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু কোন কোন বিচারকের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দেশনা উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠে নানা সময়ে।
এ কারনে ২০২৪ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পুনরায় আরেকটি সার্কুলার জারি করে ছয় বছর আগের দেওয়া কঠোর নির্দেশনার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় বিচারকদের। সম্প্রতি অধস্তন আদালতের ২৭ বিচারককে শোকজের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে।
বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিতকরন এবং সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এসব বিচারককে শোকজ করে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। যাদের শোকজ করা হয়েছে এরা সকলেই সহকারি জজ পদমর্যাদার বিচারক। তবে এখনো শোকজের জবাব পায়নি মন্ত্রণালয়। চিঠি প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে বিচারকদেরকে শোকজের জবাব দিতে বলেছিলো।
প্রসঙ্গত: প্রায় আট বছর আগে ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতিপয় নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।
ওই সার্কুলারে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচারকদের যেসব বিষয় অনুসরন করতে হবে তা হলো: প্রকাশিতব্য লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি নির্বাচন ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং বিচারকসুলভ মনোভাব অবলম্বন করতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় বা গুরুত্বহীন বিষয়ে তথ্য, স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেওয়া যাবে না। দায়িত্বশীল ও বিচারকসূলভ আচরণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। মামলার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। বাস্তব ও স্বাভাবিক অবস্থায় সহকর্মীদের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি, করণীয় ও বর্জনীয় দিকসমূহের প্রতিফলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিশ্চিত করতে হবে।
যেসব বিষয় পরিহার করতে বলা হয়:
জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো প্রকার তথ্য, মন্তব্য ও অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনো তথ্য বা মন্তব্য। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বা মন্তব্য। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয় প্রতিপন্নমূলক কোনো তথ্য বা মন্তব্য।
কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো তথ্য বা মন্তব্য। লিঙ্গ বৈষম্যমূলক কোনো তথ্য বা মন্তব্য। জনমনে অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর মনোভব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য বা মন্তব্য। কোনো মামলা সংক্রান্তে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি।
নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ছবি বা ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার। অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, মানহানিকর এবং নৈতিকতা পরিপন্থী কোনো স্ট্যাটাস, পোস্ট, লিংক, ছবি ইত্যাদিতে অন্যজনকে সংযুক্তকরণ (ট্যাগিং), আদান-প্রদান (শেয়ারিং), প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে না।



