রাজশাহী মহানগরীর বিসিক শিল্পনগরীর ‘মহানন্দা অ্যাগ্রো কেয়ার লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের পাশাপাশি ডিরেক্টর পদ দেওয়ার নামে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতারিত ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জিয়াসমিন এবং তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির এমডি আমিনুল ইসলাম। তবে ওই স্বামী-স্ত্রীর দাবি তারাই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের তথ্য মতে, আমিনুল ও জিয়াসমিন দম্পতি তাদের প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্টরশিপ বা ব্যবসায়ী অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির একটি প্যাডে লেখা হিসেবে দেখা যায় তাদেরকে কে কত টাকা দিয়েছেন।
তবে ভুক্তভোগীরা একপর্যায়ে যখন বুঝতে পারেন, এই দম্পতি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তখন তারা তাদের অর্থ ফেরত চান। নানা অজুহাতে তখন তারা টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীদের অর্থ না দিয়ে চেক দিতে বাধ্য হন। তবে ভুক্তভোগীরা সেই চেকে টাকা না পেয়ে আইনের আশ্রয় নেন এবং মামলা করেন।
ভুক্তভোগী আলমগীর কবির জানান, বিনিয়োগের নাম করে তার কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা নেয় এই দম্পতি। তিনি নিজের পাশাপাশি আরও ৪ থেকে ৫ জনকে এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করিয়েছেন। তাদের প্রতারণা বুঝতে পেরে তিনি টাকা ফেরত চাইলে তারা চেক প্রদান করেন। তবে সেই চেক থেকে টাকা তুলতে না পেরে তিনি মামলা করেছেন। তার মত আরও অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন এমন বিনিয়োগকারী বিপাকে রয়েছেন।
অপর ভুক্তভোগী শিলু পারভেজ জানান, তিনি ৭৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এখন তিনি সেই টাকা তুলতে পারছেন না। ভুক্তভোগী আফজাল হোসেন প্রামানিক বলেন, তিনি ১৫ লাখ বিনিয়োগের নামে দিয়েছিলেন। এখন তিনি বিপদে রয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে মহানন্দা অ্যাগ্রো কেয়ার লিমিটেডের এমডি আমিনুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোনও রিসিভ করেননি। তবে তার স্ত্রী জিয়াসমিন নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দাবি করে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ও তাদের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা লিমিটেড কোম্পানি পরিচালনা করেন। প্রতারণার সুযোগ নেই। বরং অভিযোগকারীরা অফিস ও গাড়ি থেকে চেক বই চুরি করে মামলা করেছে।



