রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করে। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং ছাঁটাইকৃত কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগের দাবি নিয়ে দুটি পক্ষ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। মতিঝিল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নেয় চট্টগ্রামের এস.আলম গ্রুপ। এস.আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রনে থাকার সময় বিভিন্ন পদে প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়। নিয়োগকৃতদের বেশিরভাগের বাড়ি এসআলমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পাটিয়ায়।
৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রন পুরাতনদের হাতে চলে যায়। এ দফায় পূর্বের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ৮শ জনকে চাকরিচ্যূত করা হয়।

এই ছাটাইকৃত কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচরারীরা রবিবার সকালে মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামে একটি পক্ষ অভিযোগ করেছে যে, ২০১৭ সালে স্বৈরাচারী পন্থায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি দখল করেছিল এবং বর্তমানে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা ব্যাংকটিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইসলামী ব্যাংক বর্তমান কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গত বছর একাডেমিক সনদ যাচাই ও মূল্যায়ন পরীক্ষায় যারা অংশ নেননি বা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদেরই মূলত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: মতিঝিল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামানও ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্টেও মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই দখল ও পাল্টা-দখল চেষ্টার জেরে গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ৫ জন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলে।



