ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য কারা হবেন তা নির্ধারণে চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করেছে বিএনপি। যে কোন সময় ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারে দলটি।
শুক্রবার ও শনিবার গুলশান অফিসে দুই দিন ৯ শতাধিক প্রার্থীর সাক্ষাতকার গ্রহন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির নির্বাচনী বোর্ড।
প্রথম দিনে রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
এদিন রাত তিনটা পর্যন্ত সাক্ষাৎকার চলমান ছিল। পার্লামেন্টারি বোর্ডে বিএনপি চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দীন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কি করবেন, আবার না পেলে কি করবেন এমনটা জানতে চান। তবে বেশিরভাগ নেত্রীই বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়িত করার আহ্বান জানান। এসব বৈঠকে ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেয় পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা একটি কঠিন ও দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে আজ গণতন্ত্রের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। সেই সংগ্রামে গত ১৫-১৭ বছরের আন্দোলনে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা অবশ্যই মূল্যায়িত হবে।
এই সময়ে অনেক নারী নেত্রী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, গুলিতে আহত হয়েছেন, তাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে, এমনকি সন্তানদেরও তুলে নেওয়া হয়েছে-শুধু রাজনৈতিক আদর্শের কারণে। এই দীর্ঘ দমন-পীড়নের বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।
রাজপথে আন্দোলনকারী, মামলা-হামলা-জেল জুলুমের শিকারদের গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, পাশাপাশি সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলা, আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও গুরুত্ব পাবে। সব দিক বিবেচনা করেই মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে-কারা হবেন নারী সংসদ সদস্য।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মোট ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা জামানত।
গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল।
এছাড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, যা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এর মধ্যে বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।


