স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি তৈরি করতে পারিনি : সেনাপ্রধান

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি তৈরি করা সম্ভব হয়নি, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিচালিত ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব এখন অনেক বেশি। আমাদের দেশে একটি মাত্র রিফাইনারি (ইস্টার্ন রিফাইনারি) আছে যা চাহিদার মাত্র ১০-১৫% মেটাতে পারে। বাকি জ্বালানি আমাদের পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়, যার ফলে খরচ অনেক বেশি পড়ে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধ বা বর্তমান হরমুজ প্রণালীর সংকট সবই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে।

স্ট্র্যাটেজিক লিডার হিসেবে আপনাদের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার পথ খুঁজে বের করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি সমাধানে সকলকে সম্পৃক্ত হতে হবে। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি কারণ আমাদের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জবাবদিহিতা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান দাঁড়াতে পারে না। সেনাবাহিনী সব সময়ে জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে এটাই আমরা চাই।

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই তিন সপ্তাহের কোর্স থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান দেশের সেবায় কাজে লাগবে। প্রধান অতিথি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ক্যাপস্টোন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার জন অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখার জন্য সকলকে আহŸান জানান।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এর কমান্ড্যান্ট, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব রয়েছো। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূত অংশগ্রহণ, কৌশলগত বোঝাপড়া স¤প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশাল জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

সূত্র জানায়, এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, ক‚টনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরি কর্মকর্তাগণ, এনডিসির অনুষদবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments