রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের দিয়ে মব তৈরী করে অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহানকে পুনঃরায় পদে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়াসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এনিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। খবর পেয়ে হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দিয়ে করনো মব রুখে দেয় এবং অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহানকে প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ধার করে। নির্বাচিত সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করতে আদালত ও প্রশাসনের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান এমন পরিস্থিতি তৈরী করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ,২৪এর গণঅভ্যূত্থানের পর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের কতিপয় শিক্ষক ও স্বার্থান্বেষী মহল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভূল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানে মব তৈরী করানোসহ অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহানকে অপসারণের দাবীতে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করায়। এরই এক পর্যায়ে মোঃ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ঘটনায় তিনি উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দেয়। সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ উচ্চ আদালতের নির্দেশ পালনে সভা আহ্বান করে গত ৮ই মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানকে চিঠি দেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ই মার্চ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই সভায় মোঃ শাহজাহানকে অধ্যক্ষ হিসেবে বেতন ভাতা প্রদানের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। সেই সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় মোঃ শাহজাহানকে স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।
এ রেজুলেশনের কপি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের কাছে সরবরাহ করেন। সেই সাথে অধ্যক্ষ পদে যোগদানের চিঠি ডাকযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠিয়ে দেন অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান।
বুধবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে আসলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান চিঠির পূর্নাঙ্গ কাগজপত্র পাননি বলে দাবী করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের রুমের সামনে মব তৈরী করা হয়। এরই এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহানের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়াসহ তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ মোঃ শাহজাহানকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান অভিযোগ করে বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যূত্থানের পর প্রতিষ্ঠানের একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও কতিপয় শিক্ষক যোগসাজশ করে মব তৈরী করে আমাকে অপসারণের চেষ্টা করেছে। আমি আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত বিষয়টি মিমাংসার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ স্যার মিটিংসহ রেজুলেশন করে আমাকে স্বপদে বহালের জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও রেজুলেশনের কপি তাকে দেয়া হয়নি বলে এডিসি স্যারকে দোষারোপ করেন।
এ সময় তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থী ও বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী দিয়ে মব তৈরীসহ আমাকে লাঞ্ছিত করে। তিনি আদালত ও প্রশাসনের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। আমাকে প্রতিষ্ঠানের বাহিরে রেখে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নানা ধরনের অপকর্ম করেছেন। সেই অপকর্ম ঢাকতে মূলত আমাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান বলেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শাহজাহান আলীকে স্বপদে যোগদানের জন্য আমাকে চিঠি দিয়েছেন কিন্তু রেজুলেশনের কপি তিনি দেননি। তাই উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় আমি মোঃ শাহজাহান আলীকে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারি না। সঠিক কাগজপত্র এনে তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করুক।
রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করে মোঃ শাহজাহান আলীকে প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি পুনরায় প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে আসলে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি মেনেই মোঃ শাহজাহানকে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।


