দেওয়াল লিখন কর্মসূচি ঘিরে ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের রেশে সরগরম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একই ইস্যুকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও এগুলোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও বুধবার রাতে দেয়াললিখন হয়েছে। এর আগে এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় দেওয়াললিখন করে মাস্টার দা সূর্যসেন হল ছাত্রদল। গতকাল দুপুরে দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করে কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদল।

দেয়ালে লেখা বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান’, ‘গুপ্ত রাজনীতি চলবে না’, ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক’ এবং ‘গুপ্ত রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস চাই’। এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রদলের দেওয়াললিখন কর্মসূচিকে ঘিরে। সেসময় কর্মসূচিতে হল সংসদের বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

ছাত্রদলের বিজয় একাত্তর হলের কর্মী আহমেদ শাহরিয়ার নীড় জানান, বিজয় একাত্তর হলে ‘ছাত্রশিবির গুপ্ত’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার পর হল সংসদের সামনে সেটির ছবি তুলতে গেলে ছাত্রদলের কর্মীকে বাধা দেন হলের পাঠকক্ষ সম্পাদক ও ছাত্রশিবির নেতা তারেক রহমান সাকিব। এ সময় তিনি ছবি তুলতে নিষেধ করেন এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা ও গালাগালির অভিযোগ ওঠে।

তবে অভিযুক্ত তারেক রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হল সংসদের সামনে বাধা দিয়েছেন। ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বা গালাগালি করেননি। এ বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আশিক বিল্লাহ বলেন, ছেলেটি একটু স্যাটায়ার করে ভিডিও করছিল। সাকিব তা করতে নিষেধ করেন, এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পর হল এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল।

অপরদিকে গতকাল গভীর রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথিকক্ষে ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘গুপ্ত শিবির’ লিখে দেওয়াললিখন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খালেদ হাসান ফেসবুকে লিখেন, অতিথিকক্ষে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। ছাত্রদল–শিবির দ্বন্দ্বে জড়াবে, এটা হয়তো তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু হলের উন্নয়নমূলক কাজগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া সত্যিই তাঁর জন্য কষ্টের।

ছয় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
এদিকে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল–ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা–হুমকিধমকির শিকার হয়েছেন। বুধবার রাতে বিজয় একাত্তর ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে পৃথকভাবে এই ঘটনা ঘটে। এদিন রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। তাঁরা হলেন ইফতেখার সোহান সিফাত, আসাদুজ্জামান খান ও হারুন ইসলাম।

বিজয় একাত্তর হলের ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে যান ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিসহ অন্য নেতারা। সেখানে তাঁরা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে পুনরায় তিন সাংবাদিক হেনস্তা–হুমকিধমকির শিকার হন। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেওয়াললিখন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তারা। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের ঘটনার বিষয়ে শাখা দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের চিনতে না পেরে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাঁদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনিসহ হলের যাঁরা সিনিয়র রয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments