অনুমোদিত পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন কোনো প্রকল্প বা পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে সরকারি স্থায়ী আর্থিক সংশ্লেষ সৃষ্টি করে এমন যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক পরামর্শ ও অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ (২০২৪ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এর রুল-১৩ অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের পূর্ব পরামর্শ ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় অনুমোদিত বাজেটের বাইরে এমন কোনো আদেশ জারি করতে পারবে না, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রজাতন্ত্রের আর্থিক বিষয়কে প্রভাবিত করে।
এছাড়া ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ এর ১৫১ নম্বর নির্দেশেও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, নতুন হাসপাতাল স্থাপন কিংবা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা উন্নীতকরণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের স্থায়ী আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, যা প্রচলিত রুলস অব বিজনেসের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ ধরনের অননুমোদিত পদক্ষেপের কারণে সরকারের পরিচালন ব্যয় অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাজেটে অনাকাক্সিক্ষত ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থ বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন প্রকল্পসহ যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিধি মোতাবেক আলোচনা নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার পাশাপাশি জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সকল সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।



