প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন কৃষক বাঁচলে দেশ বাচবে। তাই কৃষকদের স্বাবলন্বী করতে কৃষক কার্ড চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্য কৃষকেরা সহায়তা পাবেন। আমাদেও সরকারের নীতি কৃষি বান্ধব। কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
প্রধান মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদেও পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, আমরা শিল্প ক্ষেত্রেও জোর দি”িছ। এতে বেকারত্ব হ্রাস হবে। তিনি বলেন, শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়েও বসেছি। তারা যেন নতুন কলকারখানা চালু করতে পারেন।
তিনি শনিবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী, মঞ্চে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে দেখিয়ে বলেন, আপনাদের ছেলে মুক্তাদীর সরকারের শিল্পমন্ত্রী। তাকে বলেছি, বন্ধ হওয়া শিল্প কারখানার সমস্যা সমাধান করে সেগুলো সচল করতে। আরও নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জনশক্তি রফতানির জন্য নতুন নতুন দেশের সঙ্গে কথা বলছি। অচিরেই সেসব দেশে মানুষ কাজ করার জন্য যাবেন। এতে দেশে রেমিট্যান্স আসবে, পরিবারগুলোতেও স্বচ্চলতা ফিরবে।
তিনি বলেন, এখন কথা কম, কাজ বেশী। তিনি বলেন, এই সরকার আপনাদের সরকার। সরকারের এক নাস্বার দায়িত্ব হচ্ছে দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। । তিনি বলেন, আল্লাপাক বলেছেন, যারা নিজেদের সাহায্য করে, আমি তাদের সাহায্য করি। আমরা বিদেশ নিয়ে গর্ব করবোনা, বাংলাদেশকে নিয়েই গর্ব করবো। তনি বলেন, ‘করবো কাজ গড়বো বাংলাদেশ-সেই সাথে উপস্থিত জনতাও সমস্বরে একই ¯েøগান দেন।

প্রধান মন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম শুর“ করবো। তা শুর“ করেছি। আজ এই বাসিয়া খাল পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পারে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাবো। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলজ গাছও লাগাবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসিয়া পূণঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুর“ করেছি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি সবসময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে। বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুর“ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিবো। তা শুর“ করেছি। আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার কাজও শুর“ করেছি। এই কার্ড দিয়ে তারা যেমন সার কীটনাশক বীজ পাবেন তেমনি কৃষি ঋণও পাবেন। ইতিমধ্যে আমাদের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। তিনি বলেন, ইমাম মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুর“দের আমরা ভাতা দেওয়া শুর“ করেছি।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধূরী ্এ্যনি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শাম্মি আখতার। পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের সচিব ড. একে এম শাহাবুদ্দিন, ডিজি এনায়েত উল্লাহ, উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ভারপ্রাপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাইসার আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এসময় সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের সংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাসিয়া কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট এই খালটি খণন করেছিলেন। কালের পরিক্রমায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বছর পর এই খাল আবার খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। ৪গ কি.মিটার সড়কের মধ্যে ২৩ কি.মিটার খাল উদ্ধার করা হবে। এতে ব্যায় হবে ১২ কোটি টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায় হলে ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ১৫ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবে। ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল উতপাদন হবে।



