পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

পশ্চিমবঙ্গে বুধবার রাতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনি দলের সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার গাড়িতে থাকা আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গতকাল পর্যন্ত ফলাফল পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় দলের কর্মীই রয়েছে। ক্রমেই সহিংসতা বাড়ছে। সন্দেশখালির ন্যাজাটে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে থানার ওসি ও দুই কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় চারটি বাইকে মোট আটজন দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথের গাড়ি পিছু নেয়। গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢুকছিল, সেই সময় উলটো দিক থেকে দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এলোপাথারি গুলি চালায় বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, গাড়িটা যে গলিতে ঢুকেছে, সেটা আগে থেকে খবর দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে আততায়ীরা উলটো দিক থেকে বাইক নিয়ে এসে গুলি চালায়। বাইক আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল।

বেশ কয়েক দিন ধরে রেকি করে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে তার পিএ চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে মধ্যমগ্রামের হাসপাতাল থেকে এমনটাই দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেবে দল।

শুভেন্দু জানান, এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে। তবে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

শুভেন্দুর দাবি, সঠিক তদন্তের স্বার্থেই ফুটেজের বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া হয়নি পুলিশের কাছ থেকে। তিনি আরও জানান, তদন্তের জন্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখা হচ্ছে। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বীরভূমের নানুর থানার সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্ত করছে। ভোটের দিন তৃণমূলের বুথ এজেন্টকে কলকাতার বেলেঘাটায় হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিউ টাউনে এক বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ।

হাওড়ার উদয়নায়ারণপুরে এক বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নিউ মার্কেটে বিজেপি কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে পৌঁছে যায়। তারা একটি মাংসের দোকান ভেঙে দিতে যায়।

আসানসোলে বেশ কয়েকটি তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর, আগুন লাগানো, গেরুয়া রং করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজা, কুমারপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি এবং বার্ণপুরে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে হাঙ্গামার অভিযোগ উঠেছে।

ভোটের ফলপ্রকাশের পর সন্দেশখালির ন্যাজাটে দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, জেলায় জেলায় তাদের একের পর এক অফিস দখল করা হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে।

ভোটের আগেই জানানো হয়েছিল, আগামী দুই মাস কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে থাকবে। তাদের থাকা অবস্থাতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট মিটতেই সহিংসতা শুরু হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments