আগামীকাল পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে এর উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশের কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম, সুশৃঙ্খিল ও দৃষ্টি প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। সেই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিবেন। এ সময়ে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পিপিএম’ ও ‘বিপিএম’ পদক পরিয়ে দেবেন।

এবারের পুলিশ সপ্তাহে অসমসাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য পদকের জন্য মনোনীত হয় ১০৭ জন সদস্য। তবে সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এবারের আয়োজনে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। সাতদিনের বদলে অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে । কমানো হয়েছে ইভেন্ট ও অতিথি সংখ্যা।

এর আগে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠান বাদ রাখা হয়েছিল।
এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে সাইবার ইউনিট ও পুলিশের মেডিকেল সার্ভিস প্রতিষ্ঠাসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হবে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রথমত. দেশের সর্বত্র সাইবার সুরক্ষা জোরদার করা এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশে সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠা;

দ্বিতীয়ত. কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিদ্যমান পুলিশ হাসপাতালগুলোকে শক্তিশালী করতে একটি পুলিশ মেডিক্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা;

তৃতীয়ত. পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সিলেট এবং বরিশাল বিভাগে দুটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) এবং চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন;

চতুর্থত. পুলিশ সদস্যদের সুস্থ দেহ, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ক্রীড়া সক্ষমতার মান আরও বাড়াতে স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ;

পঞ্চমত. প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিদেশে মানব পাচার, নির্যাতন ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ করতে, একই সঙ্গে দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নীতকরণসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মিশন-দূতাবাসে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগসহ দুদক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ইত্যাদিতে পুলিশ অফিসারদের পদায়ন;

ষষ্ঠত. সাধারণ পুলিশিংয়ের পাশাপাশি দেশে উগ্রবাদ, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত গমনাগমনের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি এভিয়েশন পুলিশ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা।

এবার আইজিপি ব্যাজ পাচ্ছেন পুলিশ-র‍্যাবের ৩৪১ সদস্য
প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ ও র‍্যাবের ৩৪১ কর্মকর্তা ও সদস্য পাচ্ছেন ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’। পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ পুরস্কার এবারের পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে। পুলিশ সপ্তাহের মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এ ব্যাজ পরিয়ে দেবেন।

গত বছরের সাত দাবির একটিও পূরণ হয়নি
এক বছর আগে সাবেক অন্তর্বর্তি সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরেছিল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে উত্থাপিত এসব দাবির একটিও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি দাবি করে পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, ‘ অন্তরবর্তীকালীন সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।পুলিশ সদর দপ্তরে ওই দাবিগুলো পাঠায়।’

দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— বাহিনীর সদস্যদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়ন বা বিকল্পভাবে ওভারটাইম ভাতা প্রদান, একই সঙ্গে আইজিপি থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সবার জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু, সরকারের অন্যান্য দপ্তরের মতো পুলিশের ইন্সপেক্টর পদে ৯ম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ থাকা,

পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার রাখতে একটি স্বায়ত্তশাসিত ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) আওতায় আনা, কনস্টেবল ও এসআইদের প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা দেওয়া, কনস্টেবল থেকে নায়েক/এএসআই (নিরস্ত্র)/এটিএসআই, নায়েক থেকে এএসআই (সশস্ত্র), এএসআই (সশস্ত্র) থেকে এসআই (সশস্ত্র), এটিএসআই থেকে টিএসআই এবং এএসআই (নিরস্ত্র) থেকে এসআই (নিরস্ত্র) পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে একবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পুনরায় পরীক্ষার নিয়ম বাতিল,

অযৌক্তিক কারণে চাকরিচ্যুত বা পদোন্নতিবঞ্চিতদের বিষয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে যাচাই-বাছাই শেষে পুনর্বহাল ও প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া, বিভাগীয় মামলার তদন্ত তিন মাসের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া, এ ছাড়া পুলিশের অভ্যন্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments