সিলেট-৩ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের ভাই ও প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিটের অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন মামলার রিটকে প্রভাব ও কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
একই সঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনেরও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, বিভিন্ন সামাজিক, সাংগঠনিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুনরায় সংগঠিত ও সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় একত্রিত করার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মহিদুর রহমানের পরিচালিত বিভিন্ন আর্থিক ও বিনিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে করে হাজার হাজার গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিনিয়োগের নামে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেকেই এখন পর্যন্ত তাদের অর্থ ফেরত পাননি। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ হয়ে হারুন সরকার নামে একজন গ্রাহক প্রতিকার চেয়ে নরসিংদীর মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বনানীর প্রবাসী পল্লী গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমান। প্রায় এক বছর আগে মাধবদী এলাকার কান্দাইল মৌজার প্রায় ৫ একর জমি রাতের আধারে দখল করে নেয়। এরপর সেখানে বালি ভরাট করে ফেলে। এরপর সেখানে গত ২৮ ফেব্রæয়ারি পাকা দেয়াল নির্মান করতে গেলে আমরা বাধা দেই।
এ অবস্থায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। হত্যার হুমকি দেয় তারা। তারা হুমকি দেয়, মামলা প্রত্যাহারসহ জমি প্রবাসী পল্লীর নামে লিখে দিতে হবে। নাহলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। পরবর্তীতে সকলের ন্যায্য পাওনা বুঝিযে দিতে চেয়ে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট করে। সেই রিটের কারনে আমরা আমাদের ফসলি জমি এখনো ফেরত পাইনি। এমনকি জমির মুল্যও কেউ ফেরত পাইনি। তাই আইনানুগ সমাধান প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মহিদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফোন নাম্বারে কল করে কোনো সাড়া মেলেনি।



