অন্তর্ভূক্তিমূলক জাতীয় বাজেট প্রণয়নে হরিজন জনগোষ্ঠীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন জাগ্রত হরিজন মানব কল্যান সংগঠন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে এতে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য জয় বাসফোর, মাসুদ বাসফোর, রাজেশ
বাসফোর, স্বপন বাসফোরসহ অন্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে । শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে দেশ উলেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই উন্নয়নের সুফল সমাজের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। হরিজন জনগোষ্ঠী এখনো নানা ধরনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার ।
সামাজিক পরিস্থিতি হরিজন জনগোষ্ঠীশত শত বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বসবাস করে আসছে । দেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও নাগরিক সেবায় তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমাজে এখনো তাদের অনেকেই অবহেলিত ও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে। হরিজন জনগোষ্ঠীর শিশুদের একটি বড় অংশ এখনো শিক্ষার মূলধারায় সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হতে পারেনি।
দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষা উপকরণের অভাব, পরিবারে সচেতনতার ঘাটতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে অনেক শিশু প্রাথমিক পর্যায়েই ঝরে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় যেতে পারে না। যারা যায়, তাদেরও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে ।
তারা আরও বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত ও মানবিক হয়ে ওঠে, যখন তার সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়। হরিজন জনগোষ্ঠী কোনো করুণা বা দয়া চায় না। তারা চায় সাংবিধানিক অধিকার, সমান সুযোগ, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং উন্নয়নের সমান অংশীদারিত্ব ।
হরিজন জনগোষ্ঠীসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমঅধিকারভিত্তিক অংশগ্রহণ ও ন্যায্য বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে । সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বাজেটে হরিজন জনগোষ্ঠীর অংগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।



