রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার স্বামী ও দুই সন্তান দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করছেন। সেলিনা আফরোজ নামে ওই নারীর বয়স ৫৫ বছর। নিহত সেলিনা আফরোজার বাবার নাম খলিলুর রহমান। মায়ের নাম আফিয়া রহমান। তিনি পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ১০ নম্বর রোডের বাসিন্দা
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, বেশ কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক।
তিনি জানান, আমরা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে পল্লবী থানার সেকশন-৬ এলাকার ১০ নাম্বার রোডের সি ব্লকের ১৪ নম্বর বাসা থেকে তারঅর্ধ-গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল এবং মেঝের ওপর তার মরদেহটি পড়ে ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার স্বামী মমিনুল হক ও দুই সন্তান দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় থাকেন। পারিবারিক কলহ থাকায় বাবার পৈত্রিক ফ্লাটে থাকতেন মৃত সেলিনা আফরোজা। ১২ বছর আগে তিনি কানাডা থেকে দেশে চলে আসেন এবং ওই বাসার একটি ফ্লাটে দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন যাবত তিনি একাই থাকতেন। তার আরেক বোন চার তলায় থাকতেন। গত ২৬ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মৃত সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার ভাতিজা আশফাকুর রহমানের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর আর তার কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।
পুলিশ জানায়, একই ভবনের ওপরের তলায় তার এক বোন থাকেন। মরদেহ উদ্ধারের আগের কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যরা সেলিনার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সম্প্রতি পল্লবী-৬ নম্বর সেকশনের ১৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আরেক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে একজন যুগ্মসচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক, একজন কানাডা প্রবাসী। আর স্কুলশিক্ষক মেয়ের বাসায় থাকতেন মা।



