জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। ফলে নতুন অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।
প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সরকার যে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, নতুন বাজেট তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিরক্ষা খাতের এ বরাদ্দের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এটি বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।
পরিচালন ব্যয়েই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দঃ
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ি, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
উন্নয়ন বাজেট ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকাঃ
সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই উন্নয়ন খাতে এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ব্যয়ঃ
বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অন্যান্য সার্ভিসের পরিচালন ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৪৪ কোটি টাকা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্ব অব্যাহতঃ
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ি, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



