হজরত শাহজালাল (রহ:) মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নাই

দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ ছুটে আসেন সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে। কেউ মান্নত করেন, কেউ দেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগল। কিন্তু এসব দান থেকে বছরে কত আয় হয়, কোথায় ব্যয় হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর কখনো জানতে পারেনা সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই পন্থা পরিহার করে সচছতার ভিত্তিতে হিসাব রাখতে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।

 শুক্রবার সকালে মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের ডেপুটি কমিশনার মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি মাজারের আয় আদায় করেন এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খরচ করেন। এটি একটি পাবলিক সম্পত্তি। ইচ্ছে মত খরচ করা যাবেনা। তাই এখন থেকে আয়-ব্যয়ের রেকর্ড রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শাহজালাল মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান দান-খয়রাতের অর্থ ভোগ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, কারণ তা প্রতি মাসে সমান হয় না। যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে মাজারের বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। আমরা যে খাচ্ছি না তা নয়। আমরা খাচ্ছি, মাজারের খরচও বহন করছি। এভাবেই এত বছর ধরে চলে আসছে।’

তিনি জানান, সিটি করপোরেশন আয়-ব্যয়ের কিছু নথিপত্র নিয়েছে, যা পরে জেলা প্রশাসকের কাছে গেছে। ১০ জুনের বৈঠকে জেলা প্রশাসক মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

ডেপুটি কমিশনার জানান, সরকারি অর্থায়নে মাজারে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে তিন কোটি দিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে মাজার কর্তৃপক্ষের দেওয়ার কথা থাকা বাকি দুই কোটি টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পনা কমিশন থেকে মাজারের আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব বলেন, শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার সিলেটবাসীর পরিচয়ের একটি বড় অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। তিনি বলেন, ‘মানুষ মাজারে লাখো টাকা দান করেন, গরু-ছাগল মান্নত করেন। শরিয়ত অনুযায়ী এই দানের প্রকৃত হকদার গরিব ও এতিমরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিত্তশালীরা এটি ভোগ করছেন, যা শরিয়তসম্মত নয়।’

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ এই স্বচ্ছতার পক্ষে। সচেতন মহল যদি ডিসিকে সহযোগিতা করেন, তবে এই উদ্যোগ সফল হবে।’ একই দিন দরগা মসজিদের মুফতি হাসানও জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

ডিসি  জানান, মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসাকে একটি সমন্বিত ‘ইসলামিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানকার মাদ্রাসাটি যেন উচ্চমানের হয় এবং শিক্ষার্থীরা আমল ও ইলমের দিক থেকে সেরা হতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে মাজারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক উদ্যোগী হওয়ায় সিলেটে  অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments