বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় ইন্টারপোলের (INTERPOL) সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আজ রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত বছর (২০২৫ সালে) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুবাই পুলিশ আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ১২ জুন পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।
অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মে মাসে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়। দুদকের তদন্তে তার এবং তার পরিবারের নামে সাড়ে ১১ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার (হস্তান্তর) জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
পুরাতন দ্বন্দ্ব থেকেই বেনজীরকে দুবাইয়ে ধরিয়ে দিতে বসুন্ধরা গ্রুপের হাত রয়েছে বলে অনেকের সন্দেহ।
২০২১ সালের এপ্রিলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। মুনিয়ার বোন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রমাণ না পাওয়ায় আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়, যা আদালত পরবর্তীতে গ্রহণ করেন।
এই ঘটনার জেরে বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের টানাপোড়েন বা দ্বন্দ্বের গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর মুনিয়ার পরিবার মামলার পুনঃতদন্তের দাবি জানায়।



