দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ফিরে স্বপ্নের সূচনা করতে পারেনি ইরাক। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
নরওয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড, যিনি জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ অভিষেক রাঙিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। ২৯তম মিনিটে ডেভিড মোলার উলফের ক্রস থেকে হালান্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন (১-০)। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি ইরাক। ৩৯তম মিনিটে অধিনায়ক আয়মেন হুসেইন হেড থেকে গোল করে সমতায় ফেরান দলকে (১-১)।
কিন্তু প্রথমার্ধের শেষদিকে বড় ভুল করেন ইরাকের গোলরক্ষক। ৪৩তম মিনিটে সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড, ফলে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও নরওয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ৭৬তম মিনিটে কর্নার থেকে উঠে আসা ডিফেন্ডার লিও অস্টিগার্ড শক্তিশালী হেডে ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯০+৬ মিনিট) দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে আরও একবার জালে বল জড়ায় ইরাক, ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।
এই জয়ে ‘আই’ গ্রুপে শুভ সূচনা করল নরওয়ে। অন্যদিকে চার দশক পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে হার দিয়ে অভিযান শুরু করতে হলো ইরাককে। তবে পরাজয়ের মাঝেও ইরাকের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গোলের সময়সূচি
২৯’ — এরলিং হালান্ড (নরওয়ে) ১-০
৩৯’ — আয়মেন হুসেইন (ইরাক) ১-১
৪৩’ — এরলিং হালান্ড (নরওয়ে) ২-১
৭৬’ — লিও অস্টিগার্ড (নরওয়ে) ৩-১
৯০+৬’ — আত্মঘাতী গোল (ইরাক) ৪-১
উল্লেখ্য, এটি ছিল ইরাকের ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং নরওয়ের জন্য ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ।



